পার্থই বলেছিলেন নাম দিতে! মন্ত্রীর বাড়িতে পাওয়া সুপারিশপত্র নিয়ে স্বীকারোক্তি তৃণমূলের পুর চেয়ারম্যানের
যেসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ইডির (ED) তল্লাশিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর নামে চিঠিও। যা ইডি উল্লেখ করেছে আদালতে। উদ্ধার হওয়া সুপারিশপত্র যে তাঁরই তা স্বীকার
যেসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ইডির (ED) তল্লাশিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর নামে চিঠিও। যা ইডি উল্লেখ করেছে আদালতে। উদ্ধার হওয়া সুপারিশপত্র যে তাঁরই তা স্বীকার করে নিয়েছেন ময়নাগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল (Trinamool Congress) বিধায়ক তথা বর্তমানে পুরসভার (Municipality) চেয়ারম্যান (Chairman) অনন্তদেব অধিকারী(Anantadeb Adhikari)।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশিতে উদ্ধার
২৬ ঘন্টার বেশি সময় ধরে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি। সেই তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে ইডি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মন্ত্রীর বাড়ি থেকে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের নাম দিয়ে বেশ কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু অ্যাডমিট কার্ড, আবেদনপত্র
এবং প্রাথমিকে শিক্ষকপদের জন্য ৪৮ জন প্রার্থীর তালিকাও পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে গ্রুপ ডির ডন্য প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর দেওয়া ৫ জনের নামের একটি সুপারিশপত্রও। ইডির দাবি এর থেকেই প্রমাণিত হয়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রুপ ডি-সহ অন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

মিলেছে অন্য নথিও
ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফলের একটি তালিকাও পাওয়া গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাজ়ি থেকে। পাওয়া গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের যৌথ সম্পত্তির নথিও। এছাড়াও স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে।

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের স্বীকারোক্তি
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর নামে পাওয়া সুপারিশ পত্র সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূলের বিধায়ক তথা ময়নাগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান অনন্তদেব অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন,২০১৬-তে তৃণমূলের সব বিধায়কের কাছেই শিক্ষামন্ত্রী গ্রুপডি-তে নিয়োগের জন্য নাম
পাঠাতে বলেছিলেন। সেই মতো তিনি পাঁচজনের নাম পাঠিয়েছিলেন, তবে কারও চাকরি হয়নি বলে দাবি করেছেন অনন্তদেব অধিকারী।
তৃণমূল নেতা আরও বলেছেন, তাঁর ছেলে মেয়ে দুজনেই স্নাতকোত্তর পাশ এবং টেট উত্তীর্ণ। দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁদের নামও তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে দিয়েছিলেন। কিন্তু কারও চাকরিই হয়নি। পাল্টা তিনি বলেছেন, এ নিয় বিতর্ক করে কী লাভ।

বিরোধীদের নিশানা, দায় নিতে নারাজ তৃণমূল
উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন আরএসপি নেতা অনন্তদেব অধিকারীর দাবি নিয়ে বিরোধীরা তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছেন। তারা বলছেন, এর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের নেতারা প্যাডে চিঠি লিখে নাম সুপারিশ করেছেন। সঙঅগে টাকা দিয়েছেন। এর ফলেই রাজ্যে অযোগ্যদের চাকরি হয়েছে
আর যোগ্যরা রাস্তার ধারেই থেকে গিয়েছেন। তবে এর দায় নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেছেন, কোনও নেতা কিংবা মন্ত্রী দুর্নীতি করে থাকলে তা একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দল তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।












Click it and Unblock the Notifications