তৃণমূলে সংঘাত চরমে, সভাপতি অপসারণের দাবিতে পথে নামলেন দলের কর্মীরাই
তৃণমূলে সংঘাত চরমে, সভাপতি অপসারণের দাবিতে পথে নামলেন দলের কর্মীরাই
পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই অঞ্চল সভাপতিদের নিয়ে সংঘাত তীব্রতর রূপ নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসে। কোচবিহার জেলায় একের পর এক ব্লকে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নিয়ে বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। প্রথমে ফুলবাড়ি, রুইডাঙার পর এবার শৌলমারি অঞ্চলে নতুন তৃণমূল সভাপতিকে অপসারণের দাবিতে সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মিছিল হচ্ছে কোচবিহারে।

কোচবিহার তৃণমূলে বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার নিতে শুরু করেছে। অঞ্চল সভাপতি রদবদলের পর থেকে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। তা এমন পর্যায়েই পৌঁছয় তৃণমূলে শুরু হয়ে যায় গণইস্তফা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলে রদবদল নিয়ে কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। আর তৃণমূলের এই অন্তর্কলহে পোয়াবারো বিজেপির।
২৪ ঘণ্টা আগেই বেনজির বিদ্রোহ দেখিয়ে কোচবিহার তৃণমূলের প্রায় ২০ জন নেতা দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের এই ইস্তফা দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি, বুথ সভাপতিসহ বহু নেতা গণইস্তফা দেন। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ বিধানসভার নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলে নজিরবিহীন গণইস্তফার ঘটনার পর বুধবার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির অপসারণ চেয়ে আবার মিছিলও হয়। আর এই মিছিল হয় দলের অঞ্চল সম্পাদকের নেতৃত্বে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের নাকাটিগাছ অঞ্চল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সঞ্জীবকুমার দাস, স্থানীয় বুথ সভাপতি সৌমিত্র কর্মকার-সহ ২০ জন পদাধিকারী পদত্যাগ করেন। ইস্তফা দেওয়ার পর সঞ্জীবকুমার দাস বলেন, দলের মধ্যে যেভাবে ভেদাভেদ চলছে, নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হচ্ছে, তাতে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই দলের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি আমরা।
কোচবিহারের রদবদলের পর যেভাবে ব্লকে ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়ছে, তাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে এই জেলায় তৃণমূলের কোন্দল আরও বাড়বে। আর বিজিপি বলছে, এভাবে নিজেদের মধ্যে কোন্দল করেই শেষ হবে তৃণমূল!
পঞ্চায়েত ভোটের আগে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসে বিপাকে পড়েছে দলীয় কোন্দলে। রাজ্য নেতৃত্ব বারবার জেলা নেতৃত্বকে নির্দেশ দিলেও, একের পর এক ঘটনায় কোন্দল বেড়ে চলেছে। এখন এই বিক্ষোভ সামলানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা তৃণমূলের কাছে। আর পঞ্চায়েত ভোটের আগে কোন্দল যদি সামলাতে না পারে তৃণমূল, তবে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের মতো ভরাডুবি নিশ্চিত।
বিজেপি তো এখন থেকেই ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে তৃণমূলই নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়াবে। ফলে বিজেপির জয় সহজ হয়ে যাবে। তৃণমূলের এই সংঘাতে খুশি বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে লড়াই করায় বিজেপির পথ মসৃণ হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, কোন্দল করে নিজেদের কবর নিজেরা খুঁড়ে নিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা।












Click it and Unblock the Notifications