বিজেপির শক্তঘাঁটিতে হানা দিয়েছে তৃণমূল! ড্যামেজ কন্ট্রোলে হাল ধরলেন শুভেন্দু
সুমন কাঞ্জিলালেল তৃণমূলে যোগ দেওয়াকে গুরুত্ব না দিলেও তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগেই উত্তরবঙ্গে হাজির তিনি।
বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার। যেখানে বিগত দুটি নির্বাচনে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল, সেখানকারই এক বিধায়ক ছিনিয়ে নিয়ে মৌচাকে ঢিল মেরেছে তারা। আর তারপরই বিজেপি শঙ্কিত হয়ে নেমে পড়েছে ড্যামেজ কন্ট্রোলে। ভাঙন রুখতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর থেকেই জল্পনা চলছে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপিতে নেমে আসতে পারে বড়সড় ভাঙন। এমনকী আরও দু-একজন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এই অবস্থায় সুমন কাঞ্জিলালেল তৃণমূলে যোগ দেওয়াকে গুরুত্ব না দিলেও তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে দুদিনের সফরে যাচ্ছেন। কোচবিহারের মাথাভাঙায় সভা করবেন তিনি। তার আগে আলিপুরদুয়ারে গিয়ে শুভেন্দু বিজেপিতে ভাঙন রুখতে ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করলেন।
আলিপুরদুয়ারে রোড শো করার প্রতিবাদ সভা করলেন রেলওয়ে ফ্লাইওভারের পাশের মাঠে। সেখান থেকে তিনি সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিজেপির বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকেও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করেন। শুভেন্দু বলেন, একটি বোলেরো গাড়ি আর কিছু টাকার জন্য আপনি দলবদল করেছেন। কিন্তু ওই টাকা আপনি রাখতে পারবেন না। মাটির নীচে টাকা রাখলেও তা খুঁড়ে বের করব।
সুমন কাঞ্জিলালের দলবদলের পর শুভেন্দু তড়িঘড়ি আলিপুরদুয়ারে প্রতিবাদ মিছিল ও সভা করে দেখিয়ে দিতে চাইলেন, তারা সঙ্ঘবদ্ধ রয়েছে। কোনও বিধায়কও তৃণমূলে পা দিচ্ছেন না। আর যিনি গিয়েছেন তিনি লোভের বশবর্তী হয়ে তৃণমূলে গিয়েছেন। তিনি যে ভুল করেছেন আর সেই ভুল অন্য কেউ করবে না বলে তাঁরা দাবি।
এখানে উল্লেখ্য, বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আলিপুরদুয়ার। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের মতো ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও গোটা জেলায় সমস্ত আসনে বিজয়ী হয় বিজেপি। এই রাজ্যের ৫টি বিধানসভা আসনেই জয়ী হয়েছিল তারা। সেখানেই কি না নড়বড়ে হয়ে গেল বিজেপি। এহেন শক্ত ঘাঁটিতে সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল দল ছাড়ার পরই শঙ্কা তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরে। আশঙ্কার কালো মেঘ গ্রাস করেছে গেরুয়া আকাশে।
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপর বছর ঘুরলেই ২০২৪-এর লোকসভা। তার আগে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির বিধায়কের এই দলবদলে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এই দলবদলের পর ক্ষোভের আঁচ পড়েছে জেলায়। জল্পনা শুরু হয়েছে এখানেই নাকি শেষ নয়, আরও দুই বিধায়ক দল বদলাতে পারেন। বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা দায়ী করছেন জেলা নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে। জেলা নেতৃ্ত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কোনও সমন্বয় নেই। তার ফলে বিজেপি জেলায় কোনও আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে পারছে না। আর তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল।












Click it and Unblock the Notifications