দুদিন ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছটি হাতি, মাঠের ফসল নষ্ট, তাড়াতে হিমশিম অবস্থা বন দফতরের
কোচবিহার জেলার বিভিন্ন অংশে হানা দিচ্ছে বুনো হাতির দল। ওই দলে ছটি হাতি আছে। দিনহাটা থেকে শীতলকুচি, বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছে ওই হাতির দল৷ বন দফতরের কর্মীরাও কার্যত দিশেহারা। কীভাবে তাদের তাড়ানো যাবে? সেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলেও।
মাঠের ফসল নষ্ট করছে হাতির পাল। জমিতে ধান সহ অন্যান্য শস্য রয়েছে। এছাড়াও সবজি চাষেরও খেত রয়েছে। প্রায় সব জায়গাতেই হানা দিচ্ছে হাতিরা। গভীর রাত থেকে লোকালয়ে ঢুকে দাপাদাপি করছে তারা। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার ভোর থেকে শীতলকুচির লালবাজার, সর্বেশ্বর জয় দুয়ার, ভাওইর থানা, নগর শোভাগঞ্জ, খানুয়ার ডাঙা, ঠগের ডাঙা শিবপুর ও বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেল হাতির দল। এই দলটিতে ছটি হাতি আছে। জেলার বিভিন্ন অংশে তারা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে।
হাতির দলকে দেখে আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন। জানা যায়, গভীর রাত থেকে হাতির দল শীতলকুচি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেরিয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শীতলকুচির আকরা হাট ও শিবপুর এলাকায় হাতির দলটি হামলাও চালায়! ঘটনায় আহত হয় দুই ব্যক্তি।
জানা যায়, ওই দুই ব্যক্তির নাম মজিদ মিয়া, তার বাড়ি আখরাহাট এলাকায়। মহাম্মদ আলির বাড়ি শিবপুর এলাকায়। আহতরা মাথাভাঙা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাতির দল মানসাই নদী পেরিয়ে নিশিগঞ্জের দিকে রওনা হয়েছে। এরপর কোথায় হানা দেবে তারা! তাই নিয়ে চলছে জল্পনা।
গত দিন দিনহাটাতেও এই হাতির দলই হামলা চালিয়েছিল বলে খবর। সেখানেও মাঠের ফসল তারা নষ্ট করেছিল৷ দুজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছিল। একের পর এক এলাকায় হাতি হানা দিচ্ছে। মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন ও বন দফতরের উপরেও ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের।
বনকর্মীরা হাতিদের তাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ক্যানেস্তারা পিটিয়ে হুলাপার্টির লোকজনও চেষ্টা করছেন। এক এলাকা থেকে গিয়ে অন্য এলাকায় হাতি ঢুকে যাচ্ছে। হাতি দেখতে লোকজনও জড়ো হচ্ছে৷ মোবাইল ফোনে ছবি, ভিডিও করার প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় ওই ছটি হাতি হামলা চালাচ্ছে। আর কত দিন তারা এভাবে মাঠের ফসল নষ্ট করবে? দিশেহারা বাসিন্দারা।












Click it and Unblock the Notifications