আসল বন্দুক নিয়ে রিলস বানাচ্ছিল স্কুল ছাত্র! মালদহে হাড়হিম করা ঘটনা
আসল বন্দুক নিয়ে রিলস বানানো। আর সেই সময় বন্দুক থেকে গুলি চলে যায়। গুলিতে মৃত্যু হল স্কুলপড়ুয়ার। মর্মান্তিক হাড়হিম করা ঘটনা এই রাজ্যেই হয়েছে। মালদহ জেলার কালিয়াচকের ঘটনা। কীভাবে এক স্কুলপড়ুয়ার কাছে আসল বন্দুক এল? তাই নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
রিলস বানাতে গিয়ে কালিয়াচকের স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু। পুলিশি তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিলস বাড়ানোর সময় আচমকাই বন্দুক থেকে ছুটে যায় গুলি। আর সেই গুলিতেই মৃত্যু স্কুল পড়ুয়ার।

মালদা জেলার কালিয়াচকে গুলি কাণ্ডে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম সাফি আলি। গুলিতে মৃত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সামিউল ইসলামের বন্ধু সাফি। সেভেন এমএম পিস্তল নিয়ে রিলস বানানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটেছিল৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্তা জানান সেভেন এম এম পিস্তল নিয়ে মৃত ছাত্র সামিউল ও তার বন্ধু সাফি রিলস বানাচ্ছিল। তারপরই এই ঘটনা ঘটে। তদন্তকারী পুলিশ কর্তা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় এই ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় বাড়িতে সামিউল ও তার বন্ধু সাফি আলি ছিল। বাড়ির ছাদে রিলস বানাচ্ছিল তারা। সেভেন এমএম পিস্তল নিয়ে খেলা করছিল।
হঠাৎই বিকটক শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। এরপরই প্রতিবেশীরা বাড়িতে ঢুকে সামিউলের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। দেহের পাশে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তড়িঘড়ি সামিউলকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সিলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিউলকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
মাথায় বুলেটের চিহ্ন দেখে ঘটনা ঘিরে রহস্য দানা বাধে। আত্মহত্যা না খুন তা নিয়ে ধন্দে পড়ে পুলিশ কর্তারা। এরপর শুরু হয় তদন্ত। কালিয়াচক থানার আইসি সুমন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে শুরু হয় তদন্ত। সামিউলের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। তা খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে টিকটক ,রিলস বানাতে পারদর্শী ছিল। তদন্তকারী পুলিশকর্তা জানান সাফি আলি তার বন্ধু সামিউল ইসলামের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে গুলি চালায়।
গুলির আঘাতে মৃত্যু হয় অষ্টম শ্রেনী ছাত্র সামিউল ইসলাম। মৃত ছাত্রের বাবা রাজিকুল ইসলাম কালিয়াচক থানায় এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্তকারী পুলিশ কর্তা জানান ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার তৈরি ইম্প্রোভাইজড সার্ভিসেবল কান্ট্রি মেড সেভেন এম এম স্বয়ংক্রিয় ম্যাগাজিন ফায়ার আর্মস যা লোহার বাট, বডি, ব্যারেল, ট্রিগার, হাতুড়ি পাওয়া গিয়েছে।
কিশোরদের কাছে কীভাবে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আসল? সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ কর্তারা।












Click it and Unblock the Notifications