Jalpaiguri: নির্বাচনী বিধির মাঝে দুর্যোগ, ভরসা এখন স্বেচ্ছাসেবীরাই, হেল্পলাইন খুলল রেড ভলান্টিয়ার্স
জলপাইগুড়ির তিনজেলায় কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছে টর্নেডো। তছনচ হয়ে গিয়েছে তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে দাপিয়ে বেড়িয়েছে টর্নেডো। দুপুর তিনটে নাগাদ ধেয়ে আসে ঝড়। মাত্র আধঘণ্টায় গোটা এলাকার চেহারাই বদলে গিয়েছে।
কয়েকশো মানুষ আজ খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন। ঝড়ের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে গুঁড়িয়ে গিয়েছে পাকা বাড়ি। টিনের চাল উড়ে নিয়ে গিয়ে ফেলেছে অন্যত্র। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এতোটাই তীব্র হয়েছে টর্নেডো।

টর্নেডোর দাপটে মারা গিয়েছেন ৫ জন। গুরুত আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক। তাঁদের চিকিৎসা চলছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গতকাল রাতেই উত্তরবঙ্গে পৌঁছে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের আস্বস্ত করেন। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি কোনও সাহায্যের কথা ঘোষণা করতে পারবেন না এখন। যা করার প্রশাসন করবে।
নির্বাচনী বিধি লাগু হয়ে গিয়েছে। কাজেই রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে কোনও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা যাবে না। তবে প্রশাসন ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা দিতে পারে। এবং উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করতে পারে। এবং সেটাই করবে তারা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন এই দুর্যোগে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সরাসরি উদ্ধার করতে পারবেন না কোনও রাজনৈতিক দলই। কারণ নির্বাচনী বিধি লাগু রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন এখন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের উপরে ভরসা করতে হবে। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ এবং দুর্গতদের সাহায্যে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার রেড ভলেন্টিয়ার্সরাও হেল্পলাইন খুলে ফেলেছে। একাধিক টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে তারা। ৯৭৪৯৬১২৮৯৬/৮৬৩৭০২১৮৩৭ সহ আরও তিনটি নম্বর চালু করা হয়েছে। এই নম্বরে প্রয়োজনে দুর্গতরা ফোন করলেই সবরকম সাহায্য নিয়ে পৌঁছে যাবেন তাঁরা।
গ্রামের পর গ্রাম ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। আশ্রয়হীন হয়েছে শতাধিক মানুষ। খোলা আকাশের নীচে বাস করছেন তাঁরা। কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। ভোটমুখী রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলের নেতারা বারবার সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না তাঁরা। শিশু-বৃদ্ধ সকলেই খোলা আকাশের নীচে রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications