হিংসার প্রয়োজন ছিল না, বাড়ি ফেরার জন্য মহদীপুর সীমান্তে অপেক্ষা করছেন ওপাড়ের মাস্টারমশাই
পড়শি বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে৷ মুজিবর রহমান কন্যা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বাংলাদেশ জুড়ে সোমবার অস্থির পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে৷ ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তেও তার প্রভাব পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দুই দেশের সীমান্ত৷
মালদহের ভারত - বাংলাদেশ মহদীপুর সীমান্ত। সেই সীমান্ত দিয়েও পণ্য পরিষেবা আমদানি - রফতানি হয়। মহদীপুরের সীমান্তে চরম সতর্কতা। যদিও ভারত - বাংলাদেশের সব সীমান্ততে গতকাল সোমবার থেকেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গতকালের পর আজও সীমান্তে বন্ধ আমদানি রফতানি। তবে বাংলাদেশ থেকে এপাড়ে চিকিৎসা করাতে আসছেন মানুষ। সীমান্ত কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে বিএসএফ। বাংলাদেশে ফেরার জন্য এপাড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই৷ বিভিন্ন কাজে তারা ভারতে এসেছিলেন৷
বাংলাদেশের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বকল পেশায় শিক্ষিক। চিকিৎসার কারণে তিনি কলকাতা গিয়েছিলেন। মহদীপুর সীমান্তে তিনি অপেক্ষা করছেন। আজ মঙ্গলবার তিনি সীমান্ত পেরিয়ে বাড়ি ফিরবেন। এমন আশা করেছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তিনি দেশের পরিবার - পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন মোবাইল ফোনে৷
আজ সকাল থেকে বাংলাদেশে কার্ফু তুলে নেওয়া হয়েছে। অফিস, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজ শুরু হবে। তিনি নিজে কলেজে পড়ান। সেই প্রতিষ্ঠানও খুলে গিয়েছে। এই কথা তিনি জানতে পেরেছেন। তিনিও সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এমন আশা করছেন মাস্টারমশাই।
তিনি কি আতঙ্কিত? সেই প্রসঙ্গে বললেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব নিয়েছে৷ দেখা যাক, কী পরিস্থিতি হয়, বলতে পারছি না৷ তবে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলেই স্কুল, কলেজ খোলা হচ্ছে৷ এই কথা তিনি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল কেন? মাস্টারমশাই জানালেন, দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, বিক্ষোভ থেকে এই ঘটনা। আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার হয়েছে। সেজন্যই পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে।
তবে এই হিংসার প্রয়োজন ছিল না৷ সাধারণভাবেই যদি এই বদল হত, ভালো হত৷ সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে ভালো একটি সরকার বাংলাদেশে গঠিত হোক। জনগণের সঙ্গে মিলে দেশের জন্য কাজ করুক। সকলে খোলা আকাশের নীচে স্বস্তির সঙ্গে নি:শ্বাস ফেলুক। এই দাবি করেছেন তরিকুল ইসলাম বকল।












Click it and Unblock the Notifications