মানিকচকে গঙ্গায় ভয়াবহ ভাঙন, এবার বাসিন্দারাই উদ্যোগী জমি-বাড়ি বাঁচাতে?
মানিকচকের গোপালপুরের গঙ্গা ভাঙন চলছেই। তা রুখতে ব্যর্থ প্রশাসন, সরকার। এই অভিযোগ সাধারণ মানুষের। গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ একশন নাগরিক কমিটি তৈরি করা হয়। এবার সেই কমিটি গঙ্গা ভাঙন রুখতে নিজেরাই উদ্যোগ নিল।
গ্রামবাসীরাও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই উদ্যোগে। জিও সিনথেটিক টিউবের মাধম্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় শুরু করা হবে ভাঙন রোধের কাজ। এমনটাই জানালেন গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ একশন নাগরিক কমিটির সদস্যরা।

মানিকচকের গোপালপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ব্যাপক গঙ্গা ভাঙন। উত্তর ও দক্ষিণ হুকুমতটোলা, এলাহিটোলা এলাকার প্রায় পাঁচশো বাড়ি গঙ্গাগর্ভে চলে গিয়েছে। অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয় এলাকার বাসিন্দারা সরে যাচ্ছেন। কামালতিপুর এলাকা প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে।
সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কামালতিপুর এলাকা।এখানে প্রায় কয়েকশো বিঘা জমি গঙ্গাগর্ভে তলিয়েছে। একেবারে বাঁধের গা ঘেঁসেই বইছে নদী। নদীর গর্জনে ঘুম উড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাই নদীর গর্ভে নিজেদের শেষ সম্বল তলিয়ে যাওয়ার আগে বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গঙ্গার পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া হোক। এমতবস্থায় এদিন গোপালপুরের ভাঙন কবলিত এলাকায় যান কমিটির সদস্যরা। বাসিন্দাদের পাশে নিয়ে ভাঙন রোধে নিজেরাই কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন সদস্যরা। সংগঠন ও গ্রামবাসীরা যৌথভাবে অর্থ সংগ্রহ করবে।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের গঙ্গা ভাঙন সমস্যা নিয়ে একে অপরকে দোষ দিতেই ব্যস্ত। কেউ কাজ এগোয়িনি। সরকারি প্রতিনিধি থেকে জন প্রতিনিধি এলাকায় এখনও কেউ আসেনি বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে দক্ষিণ মালদহ বিজেপি সাধারণ সম্পাদক গৌড়চন্দ্র মন্ডল বক্তব্য রেখেছেন। জনগণের ভোট নিয়ে এই সরকার কোনও কাজ করে না শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের নামে বদনাম করতে ব্যস্ত। গঙ্গা ভাঙন সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও আবেদন তারা জানায়নি।
পাল্টা দিয়েছেন মালদহ জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা ভাঙনের সমস্যার সমাধানে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। গঙ্গা ভাঙন সমাধান করতে কোটি কোটি টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে? সেই বিষয়ে ভাবা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications