কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বনিবনা না হওয়াই শুধু নয়, বাংলায় জোট ভঙ্গে রয়েছে আরও কারণ! প্রকাশ করলেন মমতা
গত বুধবার ২৪ জানুয়ারি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বাংলায় তৃণমূল একাই লড়াই করবে। সেই সময় তিনি কারণ হিসেবে বলেছিলেন, কংগ্রেস আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পরের দিন তৃণমূলের তরফে বাংলায় ইন্ডিয়া ব্লক ভেঙে যাওয়ার জন্য অধীর চৌধুরীকে দায়ী করা হয়। আর এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোট ভঙ্গের আরও কারণ প্রকাশ্যে আনলেন।
বুধবার মালদহে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধীর চৌধুরীর নাম না করে বলেন, জোট হলেও তিনি কখনই বহরমপুর লোকসভা আসনটি ছেড়ে দিতেন না। এদিন তিনি সিপিআইএমকেও আক্রমণ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিপিআইএম তাঁকে অনেক মেরেছে, তাঁর মাথা ফাটিয়েছে, সেই সিপিআইএমকে তিনি কোনওদিন ক্ষমা করবেন না। তিনি আরও বলেছেন, সিপিআইএমের সঙ্গে যারা ঘর করে, তারা বিজেপির সঙ্গেও ঘর করে। সিপিআইএমকে বিজেপির সব থেকে বড় দালাল বলেও আক্রমণ করেন তিনি।

কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি কংগ্রেসকে বলেছিলেন, তাদের একটাও বিধায়ক নেই, শুধু দু'জন সাংসদ রয়েছে। তিনি মালদহের দু'টি আসন ছেড়ে দিচ্ছেন। তৃণমূলই তাঁদের জিতিয়ে আনবে। কিন্তু কংগ্রেস সেই সমঝোতায় না বলে। তারপরেই তিনি কংগ্রেসকে বলে দেন একটাই আসন দেবেন না।
সিপিআইএমকে রাজ্য কংগ্রেসের নেতা বলে আক্রমণ করে তিনি শর্ত দেন, আগে তাদের সঙ্গ ছাড়তে হবে। কংগ্রেসের অতিরিক্ত আসনের চাহিদার সঙ্গে তাদের সিপিআইএম প্রীতির কারণেই যে জোট হচ্ছে না তা এদিন স্পষ্ট জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন পর্যন্ত আসন সংখ্যার কারণে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট না হওয়ার কারণ সামনে এসেছিল।
উল্লেখ করা যেতে পারে, অধীর চৌধুরী বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচক। সম্প্রতি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুবিধাবাদী ও দালাল বলেও আক্রমণ করেন। পাশাপাশি তিনি বহরমপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। রাজ্য কংগ্রেস সম্প্রতি বাংলায় কংগ্রেসের ভাঙনের জন্য তৃণমূলকেই অভিযুক্ত করে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য তৃণমূল নেতারা বহরমপুর আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়ার পক্ষপাতী ছিলেন না।
প্রসঙ্গত ২০১৯-এর নির্বাচনে কংগ্রেস রাজ্যে ৪২ টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসন দক্ষিণ মালদহ এবং বহরমপুরে জয় পেয়েছিল। বহরমপুরে পঞ্চমবারের জন্য সাংসদ হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। গত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরে সিপিআইএম তাঁকে সমর্থন করেছিল। এবারও সিপিআইএম তাঁকে ওই আসনে সমর্থন দেবে, এই ইঙ্গিতে অধীর চৌধুরীকে সমর্থনে নারাজ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিধানসভায় শক্তির নিরিখে বহরমপুরের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ছ'টি তৃণমূলের দখলে রয়েছে। তাই বহরমপুর ছাড়তে রাজি ছিল না তৃণমূল কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications