তপনে ভুলে ভরা মমতার ভাষণ, বিপ্লব মিত্রকে নিয়ে আজব দাবি! কুমারগঞ্জ নিয়েও ঘেঁটে ঘ
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আজ বালুরঘাটের তপনে প্রথম জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ভাষণে কয়েকটি হাস্যকর ভুলও করলেন।
কুমারগঞ্জের একটি ঘটনার উল্লেখ করতে গিয়ে সময়ের গোলমাল করে ফেললেন। ঘেঁটে ঘ করলেন প্রার্থী পরিচিতির সময়েও।

রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রকে এবার বালুরঘাট কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই কেন্দ্রটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের বিদায়ী সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের। পুরানো দিনের সৈনিকেই আস্থা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এদিন বড় ভুল করে ফেললেন তিনি।
বক্তৃতার শেষের দিকে প্রার্থীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন দলনেত্রী। বিপ্লব মিত্রর হাত ধরে মমতা বলেন, আমাদের প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। তিনি রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভায় যেতে চান। আপনাদের কথা বলার জন্য। তাঁকে আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা, দোয়া দেবেন। বালুরঘাটের সাংসদ ৫ বছরে কোনও কাজ করেননি, শুধু ভাষণ দেওয়া ছাড়া। তাঁকে এবার বিসর্জন দিন।
লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ভুলটাই শুধু এদিন মমতার ভুল নয়। আরও আছে। তিনি এদিন বক্তৃতার শুরু করে কুমারগঞ্জের ঘটনা দিয়ে। সিপিআইএমের জমানায় কুমারগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় কুমারগঞ্জে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা।
নিহত পার্থ সিংহ রায়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। গ্রেফতার হওয়া ছাত্র-যুবদের মুক্তির দাবিতে শঙ্কর চক্রবর্তী, বিপ্লব মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বালুরঘাট আদালতে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী মমতা। সেই কথাই এদিন তুলে ধরে মমতা বোঝান বালুরঘাটের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগের কথা।
কিন্তু সেখানেও গোলমাল! মমতা বলেন, ছোটবেলায় ছাত্র পরিষদ করতাম। কুমারগঞ্জে শিক্ষক হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমে পুলিশের গুলিতে 'পার্থপ্রতিমে'র মৃত্যু হয়েছিল। মমতার জন্ম ১৯৫৫ সালে। যে ঘটনার কথা তিনি বলেন, সেটি ১৯৯৪ সালের।
বছর ৩৯-এর মমতা তখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী ছিলেন না। তিনি তখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন। ফলে ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের বিষয়টিও এদিন গুলিয়ে ফেললেন মমতা। যদিও এটা ঠিক, সেবার আদালতে সওয়াল করে ধৃতদের মুক্তির বন্দোবস্ত মমতা করেছিলেন।
কুমারগঞ্জে নিহত ছাত্র পার্থর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ১৯৯৮ সালে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পরও ভাষণ দিতেন। কিন্তু একটি সংবাদমাধ্যমে পার্থর বৃদ্ধা মা আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন, ২০০৬ সালে পার্থর বাবা পরিতোষ সিংহ রায় প্রয়াত হলে মমতা তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের পাশে থাকার কথাও বলেন।
বৃদ্ধার চার মেয়েই এখন কুমারগঞ্জের বাইরে থাকেন। মমতার সঙ্গে অনেকবার দেখা করার চেষ্টা করেছেন। আশ্বাস মিললেও কেউ দেখা করিয়ে দেননি। এহেন পরিস্থিতিতে পার্থর মৃত্যুর ঘটনা এদিন মমতার ভাষণে ফের উঠে এলো ঠিকই। কিন্তু তথ্যগত ভ্রান্তি এড়াতে পারলেন না মমতা।












Click it and Unblock the Notifications