বলির পাঠা কেষ্ট মণ্ডল! বুথে বুথে তৈরি করিম চৌধুরীরা, বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী
কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলে পাজি। অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে এমনটাই মন্তব্য করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এদিন তিনি গিয়েছিলেন কালিয়াগঞ্জে। সেখানে তিনি কংগ্রেসের ডাকা মহামিছিলে অংশ নেন।
কালিয়াগঞ্জে নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে এখনও উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। নাবালিকার রহস্য মৃত্যু নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দফায় দফায় প্রতিরোধ বিক্ষোভের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এগিন সেই ঘটনা নিয়েই পথে নামে জাতীয় কংগ্রেস। কালিয়াগঞ্জে নাবালিকার রহস্যমৃত্যু এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মহা মিছিল করে কংগ্রেস।

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগও সেই মিছিল থেকে করা হয়। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী সেই মিছিলে অংশ নেন। রায়গঞ্জের পলিটেকনিক কলেজ থেকে শুরু হয়ে সেই মিছিল যায় রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে। রায়গঞ্জের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত এবং চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আলি ইমরান রামজ ওই মিছিলে পা মেলান।
এদিন প্রতিবাদ মিছিল শেষে অধীর চৌধুরী জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি সেখানে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন। রাজ্যে নারীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ কিশোরী মৃত্যুর পর থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশ খেটে খাওয়া মানুষ গুলোকে হেনস্তা করছে। রাতবিরাতে তাঁদের বাড়িঘরে ঢুকে তান্ডব চালাচ্ছে।
সেখানে অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেষ্টকে বলির পাঠা করা হয়েছে। যে যাতে ঢোল ফাটিয়ে না দেয়, তার জন্য এখনও তাঁকে তৃণমূলের জেলা সভাপতি করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কেষ্টা এত চুরি করল আর কালীঘাট তা জানতে পারল না সেটা কেউই বিশ্বাস করবে না।

তিনি বলেন, যাঁরা কেষ্টার টাকা খেয়েছে, তা এখন বোঝা নামাতে চাইলেও, তা নামাতে পারছে না। অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, দিল্লি জাতে মাতাল তালে ঠিক। যে কারণে কেষ্টার নিজের ঢোল ফেটে গেলেও এখনও .তৃণমূলের ঢোল ফাটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু বীরভূমে নয়, সব কটি জেলায় চুরি হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, যত দিন যাবে ইডি-সিবিআই-এর হাতে আরও অনেক নেতা ধরা পড়বে। যে কারণে পশ্চিমবঙ্গে নতুন জেল তৈরির প্রয়োজন পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অধীর চৌধুরী বলেন, বাঁচার চেষ্টা করেও পারছে না, কারণ গোটা বিষয়টার নজরদারি করছে হাইকোর্ট। সেই কারণে ম্যানেজ করতে চাইলেও ম্যানেজ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দুর্নীতির উৎপত্তিস্থল জানতে পারলেও গন্তব্য স্থল জানা যাচ্ছেন না কেন। অধীর চৌধুরী বলেন, সেই মন্তব্যস্থল সবাই জানেন, কালীঘাট, দিদিভাই আর খোকাবাবু। যতদিন না পর্যন্ত সিবিআই-ইডি তাদের দরজায় যেতে না পারবে ততদিন এইরকম অনুব্রত ধরা পড়বে, কিন্তু আসল লোকেরা ছাড়াই থেকে যাবেন।
ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, এরকম করিম চৌধুরী বুথে বুথে রয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে লোক যাতে না আসে, তার জন্য পুলিশ ব্যবস্থা করছে। আন্দোলনে যাতে বাইরের লোক না আসে, তার জন্য পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। করিম চৌধুরী দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তিনি অপমান মেনে নিতে পারছেন না, বলেছেন অধীর।












Click it and Unblock the Notifications