Kanyashree Scam: কন্যাশ্রীতে দুর্নীতি! ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা ‘আত্মসাৎ’, কাঠগড়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক
Manikchak Kanyashree Scam: মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রীতেই এবার দুর্নীতির অভিযোগ। মালদহের (Malda) মানিকচকে কন্যাশ্রীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। কাঠগড়ায় খোদ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক (Assistant Headmaster)। মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের। যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল এলাকায়।
ট্যাব দুর্নীতির পর কন্যাশ্রী প্রকল্পে (Kanyashree scheme) দুর্নীতিতে নাম জড়াল মালদহের। মানিকচকের এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীর ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Fake Bank Accounts) খুলে কন্যাশ্রীর টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার। শনিবার ছাত্রীদের নিয়ে মানিকচক থানার দ্বারস্থ হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বাদিউজ জামান। সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়।
ঘটনার তদন্ত করে সরকারি প্রকল্পের প্রাপ্য টাকা ছাত্রীরা যাতে পান, পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে প্রধান শিক্ষক। তবে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার। এমনকি তিনি নিজে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে মানিকচক থানা ও বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানান।
জানা গিয়েছে, এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২১ সালে মোট ১০৪ জন ছাত্রী কন্যাশ্রীর জন্য আবেদন করেন। এদের মধ্যে ৪২ জন ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ধরা পড়েছে জালিয়াতি। ইতিমধ্যেই ১২ জন ছাত্রী এই ঘটনা জানতে পেরেই দ্বারস্থ হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনুমোদনে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।
এবিষয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী পায়েল খাতুন জানায়, "২০২০ সালে আবেদন করেছিলাম, বর্তমানে আমাদের বয়স পূর্ণ হওয়ায় খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি আমাদের টাকা ২০২১ সালেই তুলে নেওয়া হয়েছে। একটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের শীল ও সই রয়েছে আবেদনে। আমাদের অনুমান তিনি এই ঘটনায় যুক্ত।"
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাদিউজ জামান বলেন, "২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। সেই সময় থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কন্যাশ্রী এবং স্কলারশিপের নোডাল অফিসার ছিলেন সুনন্দ বাবু। তার অনুমোদন ছাড়া এই সমস্ত আবেদন কোনওভাবে সম্ভব নয়। তার সই রয়েছে প্রত্যেকটি অনুমোদনে।
তাঁর আরও দাবি, ছাত্রীদের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টেও জালিয়াতি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১২ জন ছাত্রী বিষয়টি জানালেও সংখ্যাটা বাড়তে পারে। মোট ৪২ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রীর জালিয়াতি হয়েছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষককে নিতে হবে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার। ২০১৯-এ প্রধান শিক্ষক যোগদান করার পর এই সমস্ত দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি তাঁর। বিদ্যালয়েরই চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন লিটু মোমিন। তিনি এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ সহকারি প্রধান শিক্ষকের।বিষয়টি লিখিতভাবে ব্লক এবং পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পুরোনো আক্রোশের জেরে প্রধান শিক্ষক তাঁর উপর অভিযোগ চাপিয়ে দিচ্ছেন বলে দাবি সহকারী প্রধান শিক্ষকের।












Click it and Unblock the Notifications