Jalpaiguri: কালাহাণ্ডির স্মৃতি ফিরল বঙ্গে, টাকার অভাবে মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে গেল ছেলে
Jalpaiguri: কালাহাণ্ডির স্মৃতি ফিরল বঙ্গে, টাকার অভাবে মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে গেল ছেলে
ওড়িশার কালাহান্ডিতে প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল দারিদ্রের করুন ছবি। টাকার অভাবে স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে গিয়েছিলেন স্বামী। ২০১৯ সালের জুন মাসে সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছিল গোটা দেশ। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ৪ বছর কিন্তু দারিদ্রের করুণ পরিণতির ছবি বদলায়নি। তার চার বছর কালাহান্ডির সেই স্মৃতি ফিরল বাংলায়। জলপাইগুড়িতে টাকার অভাবে মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে গেলেন ছেলে।

মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে ছেলে
মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মাশানে যাচ্ছে ছেলে। এমন ঘটনা ভিন রাজ্যে দেখা গিয়েছে খবর হয়েছে। দেশ জুড়ে তা নিয়ে চর্চাও হয়েছে। কিন্তু বঙ্গে এমন ঘটনা ঘটতে পারে সেটা ভাবনা চিন্তা করতেন না অনেকেই। কিন্তু জলপাইগুড়ির এই ঘটনা আবার বাংলাকে সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দারিদ্রের সীমা কোন পর্যায়ে পৌঁছলে সন্তান তাঁর মায়ের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে হেঁটে যেতে পারে। জলপাইগুড়ি মাল মহকুমার ক্রান্তি ব্লকে সেই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

কালাহান্ডির স্মৃতি ফিরেছে বঙ্গে
২০১৯ সালে ২৬ জুলাই ওড়িশার কালাহান্ডিতে এক আদিবাসী তাঁর স্ত্রীর দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে হেঁটে গিয়েছিলে। সঙ্গে পাশ গিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তাঁর শিশু সন্তান। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে হইচই পড়ে গিয়েছিল। যে দেশ এতটা এগিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে। সেই দেশে কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা। সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রাণে বাঁচতে পারেননি। হাসপাতালে থেকে দেহ নিয়ে যাওয়ার টাকা ছিল না তাঁর কাছে। তখন মৃতদেহ দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী। সেই ঘটনার পুরনাবৃত্তি ঘটল রাজ্যে। এবার মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে গেল দিনমজুর ছেলে।

নির্মম দারিদ্র
জলপাইগুড়ির অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার। ছেলের দিন মজুরিতেই সংসার চলত। বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে সংসার রামপ্রসাদ দেওয়ানের। মা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। মায়ের চিকিৎসাতেই খরচ হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ টাকা। গতকাল রাতে হাসপাতালেই মারাযান লক্ষ্মীরাণি দেওয়ান। মায়ের দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স বাড়া করতে গিয়েছিলেন ছেলে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স চালক ৩০০০ টাকা চান তাঁর কাছে। অথচ ভাড়া হয় ১০০০ টাকা। সেই ৩০০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা লক্ষ্মীরানি দেওয়ানের ছেলের কােছ ছিল না। শেষে নিরুপায় হয়েই চাদরে মায়ের দেহ মুড়িয়ে কাঁধে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন রাম প্রসাদ দেওয়ান। জলপাইগুড়ি থেকে ক্রান্তির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ছেলের সঙ্গে দ্রুত পা চালানোর চেষ্টা করছিলেন লক্ষ্মীরানি দেওয়ানের স্বামীও।

সাহায্যে এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা
শীতে কাবু উত্তরবঙ্গের মানুষ। জলপাইগুড়িতে রাস্তায় সকালে এই দৃশ্য দেখে ইনেকেই থমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন রাস্তায়। শেষে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় গ্রিন জলপাইগুড়ি নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। মাঝ পথে তাঁরাই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেয় পরিবারটিকে। শববাহী গাড়িতে শেষ পর্যন্ত শ্মশানে পৌঁছলেন লক্ষ্মী রানি দেওয়ান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে রাজ্য সরকার তো সৎকারের জন্যও প্রকল্প ঘোষণা করেছে। তাহলে রামপ্রসাদ দেওয়ান সেই সুবিধা পেলেন না কেন।












Click it and Unblock the Notifications