গনি খানের প্রভাব কতটা? দক্ষিণ মালদহে শান্তিতে কংগ্রেস? ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছে বিজেপি?
এবার আমের ফলন খুব ভালো হয়নি৷ পর পর দুই বার উপচে ফলন হয়েছে। এবার তাই ফলন কম হবে। এটাই নিয়ম আমের ক্ষেত্রে, জেলায় সকলেই জানে। এটাও জানে এবার ভোটের প্রচারও এই কেন্দ্রে অনেকটাই বেশি। মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রে আগামী কাল ভোট। তার আগে জল মাপছে সব রাজনৈতিক দলই।
গত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শেষ হাসি হেসেছিল কংগ্রেস। আবু হাসেম খান চৌধুরী এই কেন্দ্রে গতবার জিতেছিলেন। এবার তিনি আর প্রার্থী হননি। তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস তিন দলই এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে।

- মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র
২০০৯ সালের মালদহ জেলার লোকসভা আসন পুর্নগঠন হয়৷ দুটি আসন হয়, মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণ। মালদহ মানেই বরকত গনি খান চৌধুরী৷ মালদহের রূপকার হিসেবেই এই নাম ছড়িয়ে আছে চার দিকে। আজও ভোট এলে বরকত সাহেবের কথা আলোচনা হয়। কোতোয়ালির সামনে মানুষজন তাকিয়ে দেখে।
মহানন্দা নদীর তিরে এই মালদহ দক্ষিণ৷ আম তো আছেই। পাশাপাশি পাট ও রেশম চাষের জন্যও বিখ্যাত। চাষবাস এই লোকসভা এলাকার অন্যতম আর্থিক নির্ভরতা।
- কত বিধানসভা নিয়ে গঠিত?
মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রটি সাতটি বিধানসভা এলাকা নিয়ে গঠিত। হবিবপুর, রায়ডাঙা, মালদহ, ইংরেজবাজার, মানিকচক, কালিয়াচক ও সুজাপুর এই সাতটি কেন্দ্র। এক সময় কংগ্রেসের খাসতালুকই ছিল। পরে সিপিএমও তাদের ঘাঁটি তৈরি করেছিল বিভিন্ন জায়গায়। রাজ্যে পালা বদলের পরে বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল ও পরে বিজেপির প্রভাবও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।
- গতবারের ফলাফল
২০১৯ সালে মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র কংগ্রেসের দখলে ছিল। বরকর সাহেবের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী ওরফে ডালুবাবু কংগ্রেসের গড় ধরে রেখেছিলেন। চার লক্ষ ৪৪ হাজারের বেশি ভোট তিনি পেয়েছিলেন। তৃণমূল, বিজেপি তেমনভাবে কোনও জায়গাই পায়নি। ২০১৪ সালেও এই কেন্দ্রে আবু হাসেম খানই লড়াই করেছিলেন। সেবারও বিপুল ভোটে জিতেছিলেন তিনি৷ ২০০৯ সালে তিনি এই কেন্দ্রে জেতেন। গত ১৫ বছর ধরে মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ তিনি।
- ২০২৪ সালের নির্বাচনী লড়াই...
এবারের লোকসভা নির্বাচনে কতটা লড়াই হবে? কংগ্রেস কি নিজের আসনে জয়ের ধারা রাখতে পারবে? বিজেপি, তৃণমূল কতটা ধাক্কা দিতে পারবে ভোটব্যাঙ্কে?
এবার আর আবু হাসেম খানকে প্রার্থী করেনি কংগ্রেস। ডালুবাবুর ছেলে ঈশা খান চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে টিকিট দিয়েছেন রাহুল গান্ধীরা। সিপিএম কংগ্রেসকে এই কেন্দ্রে সমর্থন করছে। বিজেপির থেকে প্রার্থী হয়েছেন শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তিনি গতবারও আবু হাসেম খানের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন।
তৃণমূলের থেকে প্রার্থী হয়েছেন শাহনেওয়াজ আলি রায়হান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রচারে এসেছেন এই কেন্দ্রে। মালদহ থেকে তৃণমূল আসন পায় না। এবার মানুষ তাদের উপর ভরসা করুক। আবেদন করেছেন নেত্রী।
- ২০২৪ সালে কি ত্রিমুখী লড়াই?
এবার কি এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে? এই চর্চা হচ্ছে। ঈশা খান চৌধুরী দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। বাংলা কথায় টান আছে তাঁর। বরকত সাহেবের নাতি তিনি। কিন্তু সেজন্য কতটা মানুষ তাঁকে ভরসা করবে?বিজেপি ওই কেন্দ্রে শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকেই প্রার্থী করেছে। তিনি গত বার মোট ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৮ টি ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। আর তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ৩ লক্ষ ৫১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন। এবার কি এই আসনে ওলোটপালোট হবে? বিজেপি বা তৃণমূল কি সিপিএম - কংগ্রেস জোটকে হারাতে পারবে?
- এই কেন্দ্রের মানুষের সমস্যা
মালদহ দক্ষিণের অন্যতম সমস্যা নদী ভাঙন। প্রতি বছর নদী গিলে খাচ্ছে বাড়িঘর, জমিজমা। জমি, বাড়ি হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই ভাঙনের কোনও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না৷
আর্থিক স্বাচ্ছন্দের অভাব রয়েছে। জেলায় কাজ নেই। মানুষ পেটের টানে বাইরে চলে যায়। পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছর৷ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে পাড়ি দেয় এই লোকসভা কেন্দ্রের জোয়ান, মরদরা। মহিলা বয়স্করা বাচ্চাদের নিয়ে সংসার সামাল দেয়।
দক্ষিণ মালদহে রানওয়ে তৈরি হয়েছিল। জমি জটের কারণে বিমানবন্দর চালু করা যায়নি। ফলে রাজ্য সরকারের তরফে যে উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তাও থমকে যায়।












Click it and Unblock the Notifications