পাহাড়ের রাজনীতি এক বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে, তৃণমূল না বিজেপি- ভারী হবে কার পাল্লা
জিটিএ ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই পাহাড় রাজনীতি এক অভূতপূর্ব বাঁকের মাথায় দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কোন পথে মিলবে কর্তৃত্ব, তা খুঁজে চলেছে পাহাড়ের দলগুলি।
জিটিএ ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই পাহাড় রাজনীতি এক অভূতপূর্ব বাঁকের মাথায় দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কোন পথে মিলবে কর্তৃত্ব, তা খুঁজে চলেছে পাহাড়ের দলগুলি। তৃণমূল চাইছে সমস্ত দলের সঙ্গেই সখ্যতা বজায় রাখতে। আর সেই বন্ধুদের কেউ কেউ ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে অন্য পথে পা বাড়াতে চাইছেন।

পাহাড়ের রাজনীতিতে উত্থান হয়েছে হামরো পার্টির। মাত্র তিন মাস আগে পথ চলা শুরু করেই তারা দখল করে নিয়েছে দার্জিলিং পুরসভা। এতদিন যে দলের কর্তৃত্ব ছিল পাহাড়ে, সেই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে তারা পাঠিয়ে দিয়েছে তিন নম্বরে। শুধু হামরো পার্টিই নয়, পাহাড়ে নতুন দল গড়ে অনীত থাপাও সাফল্য পেয়েছে। অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।
এই যদি পাহাড়ের রাজনৈতিক চিত্র হয়, তবে আসন্ন জিটিএ নির্বাচনে বা বাকি তিন পুরসভা নির্বাচনে কী হবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ভবিষ্যৎ। বাম আমলের মাঝামাঝি পাহাড়ে সুবাস ঘিসিংয়ের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার পর থেকে পাহাড়ে রাজ চালিয়ে আসছেন বিমল গুরুং। কিন্তু তৃণমূলের সেকেন্ড টার্মে পাহাড় অশান্ত হওয়ার পর থেকেই গুরুংয়ের ভিত নড়ে গিয়েছে।

২০১৯-এর নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে না থেকেও তিনি বিজেপিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে পাহাড়ে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্ত জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু কথা রাখেনি বিজেপি- এই অভিযোগ তুলে বিজেপির সঙ্গে ছেড়ে তৃণমূলের হাত ধরেন বিমল গুরুং। কিন্তু গুরুংয়ের সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের আশ্রয়ে আসে বিনয় তামাং ও অনতী থাপাকে কাছে টেনে নিতে পারেননি।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা আড়াআড়ি দু-ভাগে বিভক্ত ছিল। গুরুংপন্থী মোর্চা আর বিনয়-পন্থী মোর্চার মধ্যে ভোট-যুদ্ধও হয়েছিল। উভয়েই তৃণমূল-বান্ধব হওয়ায় তৃণমূল কোনও পক্ষ নিতে পারেনি। ফলস্বরূপ পাহাড়ে দুই মোর্চার হার হয়েছিল। সুযোগ নিয়ে জিতে গিয়েছিল বিজেপিই।

কিন্তু ইত্যবসরে পাহাড়ে মোর্চার মধ্যে জটিলতার সুযোগ নিয়ে অজয় এডওয়ার্ড তৈরি করে ফেলেছিলেন একটি দল। জিএনএলএফ থেকে বেরিয়ে তিনমাস আগে দল তৈরি করেই এবারের পুরভোটে তারা ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে যায়। এতে প্রমাণিত পাহাড়ে মানুষ একটা বিকল্প চাইছিল। একেবারে নতুন হবে সেই বিকল্প। সেই হিসেবেই পাহাড়বাসী সুযোগ দিয়েছেন অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টিকে। কেউ কেউ বেছে নিয়েছিলেন অনীত থাপার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে। মোট কথা নতুনের খোঁজে পাহাড়।
পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ যখন এমনই এক মোড় নিতে চলেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিটিও ও বাকি তিন পুরসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। ফলে পাহাড়ের প্রতিটি দলই তৈরি হচ্ছে। এখন বিমল গুরুং পায়ের নীচে থেকে মাটি সরে যাওয়ায় বিজেপির সঙ্গে নিজেকে ফের জুড়তে চাইছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কেননা তৃণমূল এখন চাইছে হামরো পার্টি ও গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে আপন করে নিতে। কিন্তু গোর্খা জনমুক্তে মোর্চাকে এত সহজে ছেড়ে দেবে না তৃণমূল। তাই কনভেনশন ডেকেও পিছপা হলেন গুরুং। পাহাড় রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেবে, তার অপেক্ষা!












Click it and Unblock the Notifications