উত্তরবঙ্গে বিজেপির সম্মেলন, অনুপস্থিত ৫ বিধায়ক
উত্তরবঙ্গে বিজেপির সম্মেলন, অনুপস্থিত ৫ বিধায়ক
বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ থেকে কমে ৭২-এ দাঁড়িয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এদিন শিলিগুড়িতে দলের উত্তরবঙ্গের (north bengal) সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল বিজেপি (bjp)। সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন পাঁচ বিধায়ক। যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয় বিভিন্ন মহলে। অবশ্য অনুপস্থিত বিধায়কদের নিয়ে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (suvendu adhikari)।

শিলিগুড়িতে বৈঠক বিজেপির
মুকুল রায়ের পরে তন্ময় ঘোষ, সব শেষে বিশ্বজিৎ দাস। এখনও পর্যন্ত তিন বিজেপি বিধায়ক ফিরে গিয়েছেন পুরনো দল তৃণমূলে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের আটটি আসনের মধ্যে সাতটি দখল করে বিজেপি। আর ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৫৪ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯ টি দখল করে গেরুয়া শিবির। শাসকদলের দাবি বড় ভাঙনের আশঙ্কায় কাঁপছে বিজেপি। কেননা উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়কের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ বিজেপির তরফে উত্তরবঙ্গের ২৯ বিধায়ককে শিলিগুড়ির মারোয়ারি ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল এদিন। সেখানে ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন পাঁচ বিধায়ক।

অশোক লাহিড়ী
খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী মোদীরও কাছে লোক। ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এহেন ব্যক্তিকেই ২০২১-এ বছরের পর বছর ধরে আরএসপির দখলে থাকা বালুরঘাট থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। ওই আসন থেকে জয়লাভই করেন তিনি। তাঁকে পিএসির চেয়ারম্যানও করতে চেয়েছিল বিজেপি। যদিও আপাতত তা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের বৈঠরে অনুপস্থিত ছিলেন অশোক লাহিড়ী। এব্যাপারে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন অশোক লাহিড়ী দিল্লিতে থাকার জন্য। এদিনের বৈঠকে থাকতে পারেননি।

সত্যেন রায়
গঙ্গারামপুরের এই বিজেপি বিধায়ক এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। তিনি গঙ্গারামপুর থেকেই তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। গতবছরের শেষের দিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে ওই আসন থেকে এই রাজবংশী নেতাকে প্রার্থী করে বিজেপি। জয়লাভও করেন সত্যেন রায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে গুজব ছড়িয়েছিল বিশ্বজিৎ দায়ের সঙ্গে তিনিও তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যা নিয়ে পরে সত্যেন রায় বলেন, তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন না। পাশাপাশি জল্পনা তৈরি হওয়া তপন বিধানসভার অপর বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডুও জানান তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন। এদিন বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি নিজেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্ত্রী অসুস্থ। বিষয়টি তিনি দলতেও জানিয়েছেন।

জুয়েল মুর্মু
২০১৯-এ হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মু বিজেপিতে যোগ দিয়ে উত্তর মালদহ কেন্দ্র থেকে লোকসভায় জয়ী হন। এরপর বিজেপির তরফে ওই আসনে প্রার্থী করা হয় জুয়েল মুর্মুকে। ২০১৯-এর উপনির্বাচনে ওই আসন থেকে জয়ী হন তিনি। এরপর ফের ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ওই একই আসন থেকে জয় পান জুয়েল মুর্মু। তিনিই এদিন শিলিগুড়ির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি অসুস্থ থাকায় বৈঠকে যেতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

গোপাল সাহা
মালদহ আসন থেকে এবার বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন গোপাল সাহা। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এলাকায় প্রচারের সময়ে তাঁর ওপরে দুষ্কৃতী হামলা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেই সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এদিন অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে গোলাপ সাহা তাঁর সেই সময়কার অসুস্থতার কারণ দেখিয়েছেন।

মনোজ ওঁরাও
আলিপুর দুয়ারের কুমারগ্রাম আসন থেকে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন মনোজ ওঁরাও। আরএসপির হয়েই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন। ২০১১ সালে তিনি ওই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন। ২০১৬-র নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিজেপির সঙ্গে সংস্রব রাখার কারণে তাঁকে বহিষ্কার করে আরএসপি। তাঁর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে বিজেপির তরফ থেকে অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

শালতোড়ার বিধায়ককে ভয় দেখানোর অভিযোগ
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে পুলিশ তৃণমূলে যোগ দিতে ভয় দেখাচ্ছে। যদিও তিনি ভয়কে জয় করেই বিজেপির সঙ্গে রয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী পরপর দুদিন দুই বিধায়ক বিষ্ণুপুরে তন্ময় ঘোষ এবং বাগদার বিশ্বজিৎ দাস সম্পর্কে বলেছেন, এই দুজনের সঙ্গে গত চারমাস দলের সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরও বলেছেন, তন্ময় ঘোষ রেশন ও আফগানি ব্যবসা বাঁচাতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ দাস সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেও তিনি তৃণমূলের সঙ্গেই লেপ্টে ছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications