DA-ধর্মঘটে সামিল হওয়ার শাস্তি, জলপাইগুড়ির স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে FIR
ডিএ ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছিলেন জলপাইগুড়ির স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা
ডিএ ধর্মঘট নিয়ে আরও কড়া রাজ্য সরকার। এবার ডিএ ধর্মঘটে যোগদানকারী সরকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়িতে ডিএ ধর্মঘটে সামিল হওয়া স্কুলের প্রধানশিক্ষিকার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েেছ। এর আগে ২০ জন সরকারি কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।

ডিএ ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। তার শাস্তি হিসেবে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষা সেলের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য এবং অপমান করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস। জলপাইগুড়ির কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
গত ১০ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন সরকারি কর্মীরা। সেই ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। সরকারি কর্মীদের ডিএ আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসও। স্কুলে বন্ধ করা গেটের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সেসময় তৃণমূল শিক্ষক সেলের নেতা অঞ্জন দাস এসে তাঁকে হুমকিদেন এবং কটু কথা বলেন বলে অভিযোগ। তারপরেই থানায় গিয়ে সেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসেন তিনি।
তারপরের দিনই তৃণমূল শিক্ষা সেলের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় সুতপা দাসের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। সেখানে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযোগে বনধ সমর্থনের কথাও বলা হয়েছে। যদিও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারী কর্মীদের সংগঠন যৌথ মঞ্চ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত ১০ মার্চ ডিএ-র দাবিতে বনধকে সমর্থন করেছেন এমন ২০ জন সরকারী কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।
১০ মার্চের বনধে গোটা রাজ্যেই বিপুল সাড়া মিলেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। বনধে সামিল হলে সরকারি কর্মীদের চাকরি জীবন থেকে একটি দিন বাদ যাবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়। এমনকী তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। কোনও রকম ক্যাজুয়াল লিভ সেদিন সরকারি কর্মীরা নিতে পারবেন না বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়। তারপরেই ২০ জন সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এদিকে ১০ মার্চের ডিএ-র দাবিতে ধর্মঘটে ভাল প্রভাব পড়েছিল কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র। এমনকী স্কুল কলেজেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল। সেদিন অনেক স্কুলেই শিক্ষিকারা ক্লাস নেননি। তাঁরা স্কুলে এলেও সই করেননি।












Click it and Unblock the Notifications