নিম্নচাপের হানায় দার্জিলিংয়ে রেকর্ড বৃষ্টি দুদিনে, ধস আর বন্যা আতঙ্কে পাহাড়বন্দি পর্যটকরা
নিম্নচাপের হানায় দার্জিলিংয়ে রেকর্ড বৃষ্টি দুদিনে, ধস আর বন্যা আতঙ্কে পাহাড়বন্দি পর্যটকরা
বঙ্গোপসাগর থেকে বিহারের দিকে সরে গিয়েছে নিম্নচাপ। তার জেরে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ একটু কমেছে। একটু চকচকে হয়েছে আবহাওয়া। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বীভৎসতা বেড়েছে প্রবল বৃষ্টির জেরে। গত দুদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি চলছে। আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে হাওয়া অফিসের তরফে। এই পরিস্থিতি বিপর্যস্ত দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ধস নামতে শুরু করেছে। ধস নামছে সিকিমেও। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এলাকায়।

পাহাড়ের বহু রাস্তা বন্ধ, অনেক পর্যটক আটকে
দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের বহু জায়গায় ধল নেমেছে। দার্জিলিং একপ্রকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমনকী জাতীয় সড়ক পরিবহণও বন্ধ হয়ে গিয়েছে জাতীয় সড়কে ধসের জেরে। বুধবার দিনভর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ের বহু রাস্তা বন্ধ। অনেক পর্যটকও আটকে পড়েছেন দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে।

জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বইছে তিস্তা নদীর জল
স্থানীয় প্রসাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। তার ফলে এই সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিণী রোডে। ত্রিবেণীর কাছে জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বইছে তিস্তা নদীর জল। চিত্রেতে রাস্তায় বিরাট ফাটল তৈরি হয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে নামতে পারে বড় ধস।

পাহাড়ি রাস্তায় ব্যাপক ক্ষতি, ধসে আটকে পর্যটকরা
এছাড়া লাভা থেকে গরুবাথান যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কই নয়, শিলিগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বালাসন সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত। তাই এই রোডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রিম্বিকের পালমাজুয়া ব্রিজের কাছে ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সুখিয়াপখরি থেকে মানেভঞ্জনের রাস্তাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানেভঞ্জন ও সান্দাকাফুতেও বেশ কিছু পর্যটক আটকে পড়েছেন।

পাহাড় থেকে সমতল- রেকর্ড হারে বৃষ্টি নিম্নচাপের জেরে
আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, দার্জিলিংয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিনের বৃষ্টিপাত ৪০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছে। কালিম্পংয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ১৯৯ মিলিমিটার। শিলিগুড়িতে ১৯৬ মিলিমিটার ও জলপাইগুড়িতে ১৫১ মিলমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত থেকে নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণেই মাটি আলগা হয়ে ধস নামছে।

তিস্তা ফুঁসছে, পাহাড়েও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে
দার্জিলিংয়ের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ছোট ছোট অনেক জায়গায় ধস রয়েছে। কিছু বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। দার্জিলিংয়ের দিকে রাস্তা খোলা রয়েছে। তবে দার্জিলিং থেকে ফেরার রাস্তা বন্ধ। ফলে অনেক পর্যটক আটকে পড়েছেন প্রবল বর্ষণ আর ধসের কারণে। তারপর তিস্তা যেভাবে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে পাহাড়েও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications