'জঙ্গলমহল-উত্তরবঙ্গ যদি আলাদা হতে চায় সমস্ত দায়িত্ব মমতার', বার্লাকে পাশে নিয়েই বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে দিলীপ!
গত কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গকে আলাদা একটি রাজ্যের দাবিতে সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ জন বার্লা। যা নিয়ে কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। তাঁর এই দাবি ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় বঙ্গ বিজেপিকে। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষ বলেন, এহেন বক্ত
গত কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গকে আলাদা একটি রাজ্যের দাবিতে সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ জন বার্লা। যা নিয়ে কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। তাঁর এই দাবি ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় বঙ্গ বিজেপিকে। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষ বলেন, এহেন বক্তব্য সাংসদের নিজস্ব। এহেন মন্তব্যে দলের কোনও যোগ নেই বলেই দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

কিন্তু কয়েকমাস যেতেই এ যেন উলোটপুরান! এবার খোদ উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে সুর চড়ালেন দিলীপ ঘোষ। আর যা নতু করে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। রাজনৈতিকমহলের মতে, বিজেপি সবসময় ছোট রাজ্যের পক্ষে! এই অবস্থায় তাহলে কি উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মোদী-শাহ!
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ভালো ফল হয়েছে বিজেপির। এই অবস্থায় জন বার্লার পর দিলীপ ঘোষের এহেন মন্তব্যে নতুন জল্পনা উত্তরের রাজনীতিতে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, সৌমিত্র খাঁয়ের করা মন্তব্যকেও কার্যত সমর্থন বিজেপির রাজ্য সভাপতির।
শনিবার বিজেপি-র উত্তরবঙ্গে বার্লার 'শহিদ সম্মান যাত্রা' কর্মসূচিতে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। আর সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ছুঁড়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ''আজ যদি জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গ আলাদা হতে চায় তার সমস্ত দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।''
শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের জন্যে সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি তাঁর। কোনও উন্নয়ন হয়নি বলেও মন্তব্য তাঁর। বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মানুষকে আজও ভালো চিকিৎসার জন্যে বাইরে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, শিক্ষা, চাকরি বলতে কিছুই নেই।
শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, জঙ্গলমহলের প্রসঙ্গও এদিন টেনে আনেন দিলীপ। তাঁর মতে, ''জঙ্গলমহলেরও অবস্থা ভালো না। সেখানকার মা, বোনেরা শালপাতা, কেন্দুপাতা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কেন তাঁদের চাকরির জন্য রাঁচি, ওড়িশা, গুজরাতে যেতে হচ্ছে? এই দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়নের লাভ পাওয়ার অধিকার নেই তাঁদের? তাই তাঁরা যদি এই দাবি তুলে থাকেন তা হলে সেটা নাজায়েজ নয়।''
কার্যত এদিন সৌমিত্র, জন বার্লার পাশে দাঁড়িয়েই দিলীপ ঘোষের আরও মন্তব্য, আর কেউ মানুষের কথা বললেই তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হচ্ছে। আর এভাবেই দিলীপ ঘোষ রাজ্যের দুই বিতর্কিত সাংসদের পাশে দাঁড়ানোতে নয়া মাত্রা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রসঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দিলীপ ঘোষের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। বিদায়বেলাতে ভুলভাল বকছে।
শুধু তাই নয়, ভোটে মানুষ তাঁদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। আর সেই কারণে বাংলা ভাগের অঙ্ক কষছেন তাঁরা। এই সব করে কোনও লাভ হবে না বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। উত্তর এবং দক্ষিণ নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।












Click it and Unblock the Notifications