জীর্ণ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা? একটি মাত্র ক্লাস ঘর, পড়াচ্ছেন দু'জন শিক্ষিকা, কোন স্কুলে এই অবস্থা?
নেই নেই করেও স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৭০ জন৷ যদিও সকলে আসে না। পঠনপাঠনে ভয়াবহ পরিস্থিতি। কারণ, শিক্ষিকার সংখ্যা মাত্র দুই। আর তার থেকেও খারাপ অবস্থা স্কুলের। কারণ, মাত্র একটি ক্লাসঘর রয়েছে ওই স্কুলে। আর 'নেই' - এর তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ।
কী ভাবছেন, গল্পগাঁথা? এমনও আবার হয় না কি? যা বলা হচ্ছে, তার থেকেও প্রতিকূল অবস্থায় চলছে এই স্কুল। কারণ, ওই একটি ঘরের মধ্যেই চারটি শ্রেণির ক্লাস হয়। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তুলসীহাটা কেলাবাড়ি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের এমনই বেহাল অবস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালে কেলাবাড়ি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি চালু হয়। সেই সময় তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ৩,৬৩,৮৮৪ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় একটি শ্রেণি কক্ষ। এরপর ২০১০ সালে আরও দুটি শ্রেণি কক্ষ তৈরি করা হয়। কিন্তু দেওয়াল উঠলেও এখন পর্যন্ত শ্রেণি কক্ষ দুটির ছাদ হয়নি। অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে শ্রেণি কক্ষ দুটি।
এর ফলে বাধ্য হয়েই একটি শ্রেণিকক্ষেই চলছে সব শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্লাস। ছাদ না থাকার কারণে রোদ - বৃষ্টিতে কক্ষ দুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেওয়াল থেকে ইট খসে পড়ছে। অপর দিকে বিমের চাঙড় খসে পড়ছে। বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষিকারা।
অবস্থা এমনই যে ওই স্কুলে ভয়ে পড়ুয়াদের পাঠাচ্ছে না অভিভাবকদের একাংশ। ক্রমেই স্কুলে কমছে পড়ুয়াদের সংখ্যা। যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে। তাও স্কুল বিল্ডিং সংস্কারে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দফতর। যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সায়েদা খাতুন বলেন, স্কুলে মাত্র দু'জন শিক্ষিকা আছে। খাতা কলমে ১৭০ জন ছাত্রছাত্রী থাকলেও ৩০-৪০ জন স্কুল আসে। ২০১০ সালে দুটি শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৪ বছর কেটে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ছাদ হয়নি। একটি মাত্র শ্রেণি কক্ষের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গাদাগাদি করে চলছে পঠনপাঠন।
একটি রুমে চারটি ক্লাস হওয়ার কারণে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে। স্কুলের শৌচালয়গুলি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্কুলে কোনও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। মিড ডে মিল রান্নার জন্য কোনও রান্নাঘর নেই। শিক্ষিকাদের জন্য অফিস রুম নেই। অফিসের কাজ চলে শ্রেণি কক্ষের এক কোণে। এমনই মারাত্মক কথা বললেন শিক্ষিকা।
তিনি বলেন, " আমরা ব্লক নোডাল অফিসারকে একাধিকবার সমস্যার কথা জানিয়েছি। কোনও সমাধান হয়নি।" স্কুলে কোনও পরিকাঠামো নেই। এভাবেই এতগুলো বছর কেটে গিয়েছে! কীভাবে সম্ভব?












Click it and Unblock the Notifications