রোদের তেজে সোয়েটার গায়ে রাখা দায়, পাহাড়েও রেহাই নেই গরম থেকে

গরমে জেরবার দক্ষিণবঙ্গবাসী। গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই ব্যাগ গুছিয়ে হাজির হয়েছেন পাহাড়ে। কিন্তু সেখানেও রেহাই নেই। ব্যাগ ভর্তি সোয়েটার ব্যাগেই ভরে রাখতে হচ্ছে। বিন্দু বিন্দু ঘাম নিয়েই ম্যালে ঘুরতে হচ্ছে পর্যটকদের। উল্টে অনেকেই ছাতা কিনে ছাতা মাথায় দিয়ে বসছেন ম্যালে।

এপ্রিল মাসে শীত থেকেই যায় দার্জিলিং-কালিম্পং-কার্শিয়াংয়ে। রীতিমত সোয়েটার চাদর চাপিয়ে রাস্তায় বেরোতে হয় সেখানে। কিন্তু এবার যেন সব উল্টো পথে চলছে। এপ্রিলের প্রথমেও যেখানে বরফ পড়েছে সান্দাকফুতে সেখানে এপ্রিলের ১৫ তারিখে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে চলে গিয়েছে।

দার্জিলিং

পাহাড় পর্যন্ত গরমের উত্তাপ তেমন পৌঁছবে না। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গে গরম বাড়লেও পাহাড়ে তার আঁচ তেমন পড়বে না। পয়লা বৈশাখের ছুটি কাটাতে আর গরম থেকে বাঁচতে উত্তরবঙ্গে এবার ভিড় উপচে পড়ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং থেকে শুরু করে পাহাড়ে কোনও অফবিট কেন্দ্রেই হোম স্টে থেকে হোটেল কিছুই ফাঁকা নেই।

দার্জিলিং

পর্যটকদের রেকর্ড ভিড় এবার পাহাড়ে। কিন্তু পাহাড়ে বেড়াতে এসে যে ঘেমে নেয়ে নাজেহাল হতে হবে এমন কখনও ভাবেননি কেউ। এপ্রিল-মে মাসে ভালই ঠান্ডা থাকে পাহাড়ে। সিকিমে তো রীতিমত বরফ দেখা যায়। কিন্তু একি দশা ! শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি যত উপরের দিকে উঠেছে। সকলে স্বস্তিুর শ্বাস নেবেন ভেবেিছলেন। কিন্তু এযাত্রায় তা আর হল না। গ্রীষ্মাসুর থাবা বসিয়েছে পাহাড়েও।

দার্জিলিং

ব্যাগ বোঝাই করে যাঁরা সোয়েটার-চাদর-টুপি মাফলার নিয়ে নিয়ে পাহাড়ে হাজির হয়েছিলেন। তাঁদের কাছে এখন সেগুলো বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েেছ। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং-কার্শিয়াং সর্বত্র তাপমাত্রা বেশ চড়া। পাহাড়বাসীর কাছেই যা প্রথম। এতটা এপ্রিল মাসে এর আগে কখনও পড়েনি। যাঁরা আশা নিয়ে গিয়েছিলেন যে পাহাড়ে ঠান্ডায় বেশ জিরিয়ে আসবেন তাঁদের সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছে গরম।

সোয়েটার চাদর বাক্সে রেখেই ঘাম মুছতে মুছতে পাহাড়ের রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে। দার্জিলিং-টি থেকে কফি-মোমো কোনওটাই আর গরমে খেতে চাইছে না মন। আইসক্রিমের বিক্রি তুঙ্গে পাহাড়ে। গরমের চোটে সোয়েটার চাদরের দোকানে মন্দা। হু হু করে বিক্রি হচ্ছে ছাতা। কারণ পাহাড়ের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে রোদ থেকে বাঁচতে এখন ছাতাই তো ভরসা।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলা গুলিতে তাপ প্রবাহ চলবে। অর্থাৎ মালদহ, দুই দিনাজপুরে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। কিন্তু তার আঁচ যে পাহাড়ে পৌঁছে যাবে সেটা কেউ ভাবতে পারেননি। পাহাড়বাসীও অবাক। এপ্রিল মাসে টেবিল ফ্যান চালাচ্ছেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত পাহাড়ে যা বিরল বললে ভুল হবে না। সেই সঙ্গে দেদারে বিক্রি হচ্ছে কোল্ড ড্রিংস। চা-কফি আর মুখে তুলছেন না কেউ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+