অধীরকে পত্র-বোমা প্রদেশ সহ সভাপতির, ভারত জোড়ো যাত্রার মাঝে অস্বস্তি কংগ্রেসে
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারত জোড়ো যাত্রার মধ্যেই কংগ্রেসে এল খারাপ খবর। মালদহ জেলার পর্যবেক্ষকের পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকা করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি আবদুস সাত্তার।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ভারত জোড়ো যাত্রার মধ্যেই কংগ্রেসে এল খারাপ খবর। মালদহ জেলার পর্যবেক্ষকের পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকা করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি অধীর চৌধুরীকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগের কথা জানালেন।

মালদহ জেলা পর্যবেক্ষকের পদ থেকে ইস্তফা!
প্রদেশ কংগ্রেস সহ সভাপতি আবদুস সাত্তারকে মালদহ জেলা কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি মালদহ জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। তিনি পদত্যাগপত্রে কেন তিনি মালদহ জেলা পর্যবেক্ষকের পদ ছাড়তে চান, তার কারণও ব্যাখ্যা করেন।

মালদহ জেলা নেতৃত্ব পর্যবেক্ষককে চেনেই না!
আবদুস সাত্তার লেখেন, মালদহ জেলা নেতৃত্ব তাঁকে পর্যবেক্ষক হিসেবে চেনেই না। তাঁরা তাঁর সঙ্গে এমনই ব্যবহার করছেন যে তিনি অপাংক্তেয়। কোনও অনুষ্ঠানেই জেলা পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁকে রাখা হয় না। তিনি তাই এই ঘটনায় অপমানিত বোধ করছেন। তিনি প্রমাণস্বরূপ কোন কোন অনুষ্ঠানে তাঁকে ব্রাত্য করে করা হয়েছে তাও জানিয়ে দেন।

মালদহ জেলার পর্যবেক্ষক পদে আর নয়
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা লেখেন, যখম মোস্তাক আলম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ২০২২-এর ৫ নভেম্বর বৈঠকে তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র সর্বদা আমার সঙ্গে সহযোগিতা করে গিয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করছে মালদহ জেলা নেতৃত্ব। তাই তিনি মালদহ জেলার পর্যবেক্ষক পদে আর থাকতে চাইছেন না।

অধীরের বিরুদ্ধে পত্র বোমা প্রদেশ সহ সভাপতির
আবদুস সাত্তার আরও লেখেন, আমি আপনাকে কয়েকটি উদাহারণ দিতে পারি আমাকে অপমানের। ইংলিশ বাজার ও ওল্ড মালদহ পুরসভা নির্বাচন নিয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে। তিনি বলেন, আপনি মালদহ জেলায় জনসভা করেছিলেন ২০২২-এর ৫ ও ২০ নভেম্বর। কিন্তু জেলার তরফে ও আমাকে জানানো হয়নি, আপনিও আমাকে জানাননি। এমনকী ৫ নভেম্বর জনসভায় প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক সাংসদ চেল্লাকুমারজিও উপস্থিত ছিলেন।

নদিয়া পার করে যখন ভারত জোড়ো মুর্শিদাবাদে
কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রার অংশ হিসেবে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে যখন সাগর থেকে পাহাড় পরিক্রমা চলছে, তখন কংগ্রেসে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ ভালো ছবি নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, রবিবার সকালে নদিয়া পার করে রেজিনগর বিধানসভাতে প্রবেশ করেছে।

বাংলাজুড়ে দুর্নীতির লাইসেন্স দিয়েছে তৃণমূল
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী নেতৃত্বে এই ভারত জোড়ো যাত্রা করা হচ্ছে। অধীর চৌধুরী বলেন, মানুষের মধ্যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে স্বাভাবিকভাবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মানুষের সাড়া পাচ্ছি, আমরা অভিভূত। আজকে বাংলাজুড়ে দুর্নীতির লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আজকে সাধারণ মানুষের রুটি-রোজগার কোনও কিছুই নেই।

সাধারণ মানুষের বঞ্চনার কাহিনি শুনছি
সাধারণ মানুষের বঞ্চনার সেই কাহিনি মানুষ আমাদেরকে শোনাতে চাইছেন। আমরা অসহায় মানুষদের সঙ্গে কথা বলছি। যখন জেলা পরিষদ আমাদের ছিল, পঞ্চায়েত আমাদের ছিল, তখন মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষের অনেক আশা ছিল। তাই তারা আমাদেরকে এখন শোনাতে চাইছেন তাদের অভাব-অভিযোগের কথা। ভারত জোড়ো যাত্রার মধ্যেই রবিবার সকালে এই মন্তব্য করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।












Click it and Unblock the Notifications