উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব, পুজোয় দিলেন বড় কাজ
Mamata On Flood: বন্যা হলে কেন্দ্র একমাত্র বাংলাকেই আর্থিকভাবে বঞ্চনা করে। ফরাক্কায় ২০ বছর ধরে ড্রেজিং না হওয়ায় জল বাড়লে ডোবে বাংলা ও বিহার। শিলিগুড়িতে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উত্তরবঙ্গের বন্যা ও পাহাড়ের ধস নিয়ে আজ শিলিগুড়িতে পর্যালোচনা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, জেলাশাসকদের পাশাপাশি ছিলেন ১০ জন বিভিন্ন দফতরের সচিব। কেউ যোগ দেন ভার্চুয়ালিও।

বেশ কিছুদিন ধরে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। নেপালে ব্যাপক বৃষ্টির ফলে কোশি নদীর জল ছাড় হয়েছে। ফলে মালদা জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। আরও বেশ কিছু জেলাতেও প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দুর্গতদের ফ্লাড সেন্টারে থাকতে পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ডিভিসি আমাদের না জানিয়ে জল ছাড়ায় দক্ষিণবঙ্গে বন্যা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দু-বার চিঠি দিলেও তিনি উত্তর দেননি। জলশক্তি মন্ত্রক থেকে যে চিঠি এসেছিল তাতেও ভুল ছিল। তা নিয়েও চিঠি দিয়েছি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ত্রাণ বাবদ কোনও টাকাই দেয় না কেন্দ্র। জলাধারগুলির ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা কেন্দ্র না করায় উষ্মা প্রকাশ করেন মমতা।
মমতার কথায়, এবার নেপাল থেকে ৬ লক্ষ কিউসেক জল ছেড়়েছে। তাতে অনেক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। এমনিতেই অনেক জায়গা বন্যা কবলিত। সরকার সাধ্যমতো সব করছে। পুজোর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। ক্যাবিনেট অন ইনফ্রাস্ট্রাকচার রয়েছে। একটাই কথা বলব, পুজো তো হবেই। তবে বন্যাত্রাণে দুর্গতদের পাশ থেকে সরলে চলবে না। এটাও একরকম সেবা।
সম্প্রতি গজলডোবার টাকিমারিতে বিদ্যুতের তারে শর্ট সার্কিট হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই পরিবারের সুফলা দাসের হাতে ৫লক্ষ টাকার চেক ও এক যুবকের হাতে তিন লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গের ৬ জেলাতে দু-জন করে সচিব ও জেলাশাসককে দিয়ে প্রতিনিয়ত বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পাহাড়ে ধস নিয়ে সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে শনিবারই শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বেশ কিছু দোকানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ছয়টি দোকান একেবারেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকানগুলি সরকারের তরফে করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেগুলি পুরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের এক লক্ষ টাকা এবং বাকি যে দোকানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications