গ্রেফতারি পরোয়ানার পর আত্মসমর্পণ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার, ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর
কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, আত্মসমর্পণ তুফানগঞ্জ আদালতে
তিন দিনের ব্যবধানে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল দুই কেন্দ্রীয়মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও জন বার্লার বিরুদ্ধে। বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার বিরুদ্ধে শুক্রবার তুফানগঞ্জ আদালত নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়েছিলেন জন বার্লা। আলিপুরদুয়ার থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি সাংসদ গিয়েছিলেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে। শেষ দু-বছর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছে সংখ্যা উন্নয়নের মন্ত্রকের। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভা ভোটে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে বিনা অনুমতিতে সভা করে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছিলেন। বক্সিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মামলা চলছিল তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতে।
শুক্রবার কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জন বার্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। আলিপুরদুয়ারের ওই বিজেপি সাংসদকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু শুনানিতে গরহাজির ছিলেন তিনি। সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তারপর একদিন কাটতে না কাটতেই তিনি আত্মসমর্পণ করলেন তুফানগঞ্জ আদালতে।
এর আগে আর এক কেন্দ্রীয়মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। নিশীথ প্রমাণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আলিপুরদুয়ারের সোনার দোকানে চুরির। তিনিও শুনানিতে হাজিরার নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। আদালতে গরহাজির থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নিশীথ প্রামাণিকের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে মুখ না খুললেও জন বার্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হওয়ার ঘটনাকে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলনে, রাজনৈতিক সভা-সমিতি করলে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়! এমন ঘটনা ভূ-ভারতে দেখিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাসংদ শান্তনু সেন বলেন, ভারতবর্ষের সংবিধান অনুযায়ী কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ বেশ কিছু নেতা, কর্মী ও সমর্থন পরিবেষ্টিত হয়ে তুফানগঞ্জ আদালতে আসেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপির সাংসদ জন বার্লা। আদালতে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তুফানগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণের আইন প্রক্রিয়া মেটাচ্ছেন তিনি। এই মামলায় মোট ৪ জন অভিযুক্ত ছিলেন। তার মধ্যে ৩ জন আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন। এই মামলার চতুর্থজন জন বার্লা। আত্মসমর্পণে পর তিনি ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পান। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications