চা শ্রমিকদের জীবিকা-সংকট নিয়ে বৈঠক! উত্তরবঙ্গ থেকে মোদী সরকারকে নিশানায় বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি থেকে তিনি আলিপুরদুয়ারে যান। জনসংযোগ করতে মুখ্যমন্ত্রী চার্চেও যান। মঙ্গলবার তিনি জানান ছয় এপ্রিল পর্যন্ত তিনি উত্তরবঙ্গে থাকবেন। তারপর সাত ও আট এপ্রিল তিনি যথাক্রমে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় যাবেন।
উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ করেছেন। একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ করার পাশাপাশি রাস্তার টাকাও কেন্দ্র দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও বড় যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা হল, মোদী সরকার উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দশ লক্ষ মানুষের জীবিকার সংকট তৈরি করেছে। বুধবার তিনি চালসার বাংলোয় সেইসব চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মুখ্যমন্ত্রী চালসায় বলেছেন, কেন্দ্রের একটি নির্দেশে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য সংকট তৈরি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার থেকে চা শিল্পে সংকট দেখা দিয়েছে। চা পাতা নিয়ে যদি নির্দিষ্ট ল্যাব রিপোর্ট না থাকে, তাহলে চা প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলি ছোট চা শ্রমিকদের থেকে চা পাতা কিনতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায়।
যদিও এব্যাপারে এক চা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, টি বোর্ড ও ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চায়ে কোনও নিষিদ্ধ সার কিংবা রাসায়নিক আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে নিয়মিত চা প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলিতে চেক করা হবে। যদি কোনও নমুনায় তা পাওয়া যায়, তাহলে সেই চা পাতা নষ্ট করে ফেলা হবে। কোনওভাবেই তা বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
বাংলায় উৎপাদিত মোট চায়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় ছোট বাগানে আর বাকি অংশ বড় বাগানগুলি থেকে আসে। বাংলায় তরাই অঞ্চলে চায়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র শ্রমিক অর্থাৎ চা চাষী। সব মিলিয়ে সেখানকার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ চা বাগানের ওপরে নির্ভরশীল।
তবে চা শিল্পে সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অফ স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা বলছে, একজন ক্ষুদ্র চা শ্রমিকের পক্ষে প্রতিটি ব্যাচের সবুজ চা-পাতা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানো সম্ভব নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে চা পাতা তুলতে অন্যদিকে নিযুক্ত করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি পাতা বিক্রি না করা যায়, তাহলে কীভাবে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া যাবে, সেই প্রস্নও তোলা হয়েছে সংগঠনের তরফে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, চা নিয়ে এই নির্দেশ নির্বাচনের আগে জারি করা হয়েছিল। এই নির্দেশ জীবিকাকে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্তের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আরও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী সফরকে সামনে রেখে সংকট তৈরি করা হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী এসে বলবেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৯-এও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বন্ধ বাগানগুলি তিনি খোলার ব্যবস্থা করবেন।
প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমদফায় নির্বাচন হতে যাওয়া জলপাইগুড়িতে সভা করতে চলেছেন ৪ এপ্রিল। একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন কোচবিহারে।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications