বিজেপি VS তৃণমূল VS কংগ্রেস: মালদহ উত্তরে ত্রিমুখী লড়াই, জেনে নিন এই কেন্দ্রের ইতিবৃত্ত
মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র। সারা দেশের ৫৪৩ টি আসনের মধ্যে এবং বাংলার ৪২ টি আসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখান থেকে এবারও লড়াইয়ে সামিল গতবারের সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে এবার কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলম।
মালদহ জেলা কিংবা মালদহ সংসদীয় আসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছে বরকত গণিখান চৌধুরীর নাম। এখনও প্রত্যেক ভোটে তাঁর নাম চলে আছে। ভোটে লড়াই করেন তাঁর কোনও না কোনও আত্মীয়। আসন পুনর্বিন্যাসের পরে যা মালদহ উত্তর ও মালদহ দক্ষিণে ভাগ হয়ে গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের অন্য কেন্দ্রগুলির মতো মালদহ জেলার অন্তর্গত মালদহ উত্তর লোকসভায় সাতটি বিধানসভা রয়েছে। এই সাতটি কেন্দ্র হল হবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিষ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া ও মালদা। এর মধ্যে হবিবপুর তফশিলি উপজাতিদের জন্য এবং গাজোল ও মালদা তফশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত।

- মালদহ টানা কংগ্রেসের দখলে ছিল
১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত এই আসনটি জাতীয় কংগ্রেসের সৌরেন্দ্র মোহন ঘোষ, রেণুকা রায় এবং উমা রায়ের দখলে ছিল। পরে ১৯৭১ এবং ১৯৭৭-এর নির্বাচনে ই আসন থেকে জয়ী হন সিপিআইএমের দীনেশ জোয়ারদার।
এরপর ১৯৮০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসন থেকে জয়ী হয়ে এসেছেন জাতীয় কংগ্রেসের এবিএ গণিখান চৌধুরী। তিনি ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পরে ২০০৬ সালে ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তাঁর ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী।
২০০৯ সালে এলাকা পুনর্বিন্যাসের পরে মালদহ উত্তর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন গণিখান চৌধুরীর বোনের মেয়ে মৌসম বেনজির নূর। ২০১৪ সালেও তিনি ওই কেন্দ্র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। কিন্তু ২০১৯-এ তিনি তৃণমূলের হয়ে ওই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, বিজেপির খগেন মুর্মুর কাছে হেরে যান। অর্থাৎ এই কেন্দ্রের দখল এখনও একবারের জন্যও তৃণমূল পায়নি।
- ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর লোকসভার অন্তর্গত সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে হবিবপুর, গাজোল এবং মালদহ কেন্দ্র থেকে জয়ী হন বিজেপির প্রার্থীরা। অন্যদিকে চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া থেকে জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থীরা।
এছাড়াও মালদহ জেলার মধ্যে পড়েছে মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মানিকচক, ইংরেজ বাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্র। এর মধ্যে ইংরেজ বাজারকে বাদ দিয়ে বাকি চার কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে রয়েছে।
- ইতিহাস-ভূগোল
কলকাতা থেকে মালদহের দূরত্ব প্রায় ৩৪৭ কিমি। জেলা সদর ইংরেজ বাজার। মৌর্য সাম্রাজ্য হোক কিংবা সেন রাজবংশ সবেতেই এই জেলার কথা উল্লেখ রয়েছে। একসময় গৌরবঙ্গের রাজধানী ছিল মালদা। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পরে ব্রিটিশ শাসনের শুরু। ১৮১৩ সালে পূর্ণিয়া, দিনাজপুর এবং রাজশাহী জেলার কিছু অংস নিয়ে এই জেলা গঠিত হয়।
মালদহের উত্তরে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, দক্ষিণে মুর্শিদাবাদ। পূর্বে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানা। পশ্চিমে ঝাড়খণ্ডে সাঁওতাল পরগনা এবং বিহারের পূর্ণিয়া।
- অর্থনীতি
এই জেলার উল্লেখযোগ্য ফসল ধান ছাড়াও আম, পাট ও রেশম। অন্যদিকে এই জেলার বদনাম হল ভারতে যে জাল মুদ্রা প্রবেশ করে, তার ৯০ শতাংশ এই জেলা দিয়ে প্রবেশ করে। ২০০৬ সালে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুসারে সারা দেশের সব থেকে পিছিয়ে পড়া ২৮৩ টি জেলার মধ্যে অন্যতম ছিল এই মালদা জেলা।
এই জেলায় উল্লেখযোগ্য কোনও শিল্প নেই। জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি শ্রমিক এবং অদক্ষ শ্রমিক। অনেকেই কাজ না পেয়ে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দেন।
(তথ্য সহায়তা উইকিপিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications