বিজেপির শক্ত ঘাঁটিই কি নড়বড়ে হয়ে গেল ২৪-এর আগে, ক্ষোভের আঁচ বিধায়কের দলবদলে
এ জন্য বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা দায়ী করছেন জেলা নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে। জেলা নেতৃ্ত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কোনও সমন্বয় নেই। তার ফলে বিজেপি জেলায় কোনও আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে পারছে না।
২০২১-এ স্বপ্নভঙ্গ হলেও আলিপুরদুয়ার ফেরায়নি বিজেপিকে। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের মতো ২০২১-এর বিধানসভা ভোটেও গোটা জেলায় সমস্ত আসনে বিজয়ী হয় বিজেপি। এহেন শক্তিশালী ক্ষেত্রেই এবার নড়বড়ে হয়ে যেতে বসেছে তারা। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল দল ছাড়ার পরই শঙ্কা তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরেও।

শক্ত ঘাঁটিতে উইকেট পড়তেই আশঙ্কার কালো মেঘ
বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আলিপুরদুয়ার। এই রাজ্যের ৫টি বিধানসভা আসনেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। আর আগে লোকসভাতেও এই পাঁচ বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপির লিড ছিল। সেখানেই কি না নড়বড়ে হয়ে গেল বিজেপি। আলিপুরদুয়ারের শক্ত ঘাঁটিতে উইকেট পড়তেই আশঙ্কার কালো মেঘ গ্রাস করেছে গেরুয়া আকাশে।

এক বিধায়কের দলবদলের পর ক্ষোভের আঁচ পড়েছে জেলায়
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপর বছর ঘুরলেই ২০২৪-এর লোকসভা। তার আগে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির বিধায়কের এই দলবদলে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। এই দলবদলের পর ক্ষোভের আঁচ পড়েছে জেলায়। জল্পনা শুরু হয়েছে এখানেই নাকি শেষ নয়, আরও দুই বিধায়ক দলবদলাতে পারেন।

বিজেপি জেলায় কোনও আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে ব্যর্থ
হঠাৎ জেলা বিজেপিতে এই অস্থিরতা কেন? এ জন্য বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা দায়ী করছেন জেলা নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে। জেলা নেতৃ্ত্বের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কোনও সমন্বয় নেই। তার ফলে বিজেপি জেলায় কোনও আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে পারছে না। আর তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল।

আরও অন্তত দু’জন বিধায়ক দল ছাড়তে পারে বলে জল্পনা
তিনি বলেন, দ্রুত ফাঁকফোকর মেরামত করতে না পারলে বিপদ আসন্ন। বিজেপিতে ভাঙনের শুরু হয়েছিল ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পরই। সেই আঁচ এখন এসে পড়েছে তাদের সবথেকে শক্তিশালী জেলা আলিপুরদুয়ারে। ইতিমধ্যে একজন বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আরও অন্তত দু'জন বিধায়ক দল ছাড়তে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

পাঁচে পাঁচ করার পরও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে গুরুত্ব নেই
এই ভাঙনের অন্যতম কারণ হিসেবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনের জেলায় পাঁচে পাঁচ করার পরও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি এই জেলা। ফলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এর আগে খোদ জেলার সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা দল চাড়েন। তখন থেকেই আগুন চাপা ছিল। তা ধিকধিক করে জ্বলছিলই। এখন আবার গনগনে আঁচে পরিণত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

অনভিজ্ঞ হাতে পড়েছে বিজেপি, শক্ত হাতে রাশ ধরতে ব্যর্থ
রাজনৈতিক মহল মনে গঙ্গা প্রসাদ শর্মা চলে যাওয়ার পর অনভিজ্ঞ হাতে পড়েছে বিজেপি। তিনি শক্ত হাতে রাশ ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারপর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ রয়েছে জেলা বিজেপি নেতা ও বিধায়কদের একাংশের। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী হওয়ার পর জেলায় তাঁর দেখা মেলে না বলে অভিযোগ। দলের নীচু তলার সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের সংযোগও কেটে গিয়েছে এমন নানা ঘটনায়। ফলে বিজেপি অশনি সংকেত দেখছে আলিপুরদুয়ারের মতো শক্ত ঘাঁটিকে নিয়েও।












Click it and Unblock the Notifications