গুরুংয়ের ডাকে সাড়া বিজেপির, বেঁকে বসল জোটসঙ্গী! বিরোধী জোটে ধাক্কা পাহাড়ে
পাহাড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বাজতে চলেছে ২০ বছর পর। সেই নির্বাচনে তৃণমূল-বিরোধী জোট গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রইল। তৃণমূল-'বান্ধব' বিমল গুরুং ফের হাত মেলালেন বিজেপির সঙ্গে। গুরুংয়ের ডাকে বিজেপি সাড়া দিলেও জোটসঙ্গী জিএনএলএফ গরহাজির থাকল। বিরোধী জোটে ধাক্কা লাগল পাহাড়ে।
পাহাড়ে যে তৃণমূল বিরোধী জোট হতে চলেছে, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। হঠাৎ গোর্খা জনমুক্তি প্রধান বিমল গুরুংয়ের দিল্লি যাত্রা থেকেই জল্পনার সূত্রপাত। তারপর তিনি দিল্লি থেকে ফিরে যেভাবে জন বার্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন, তাতে আরও প্রকট হয়েছিল জোট-জল্পনা।

সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ে জোটের বাদ্যি বেজে গেল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট গড়ার প্রয়াসে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হল প্রকাশ্য। সার্বিকভাবে সফল না হলেএ বিমল গুরুং অ্যান্ড কোম্পানি কিঞ্চিৎ সফল। গোর্খা জনমুক্তির ডাকা সর্বদল বৈঠকে হাজির হল বিজেপি।
এমনকী পাহাড়ের নতুন গজিয়ে উঠেই দার্জিলিংয়ের ক্ষমতা দখল করা হামরো পার্টি ও সিপিআরএমও এই জোটে বৈঠকে শামিল হয়েছিল। দার্জিলিংয়ের জিডিএনএস প্রক্ষাগৃহে হয় এই জোট বৈঠক। এই বৈঠকে যোগ দেয়নি বিজেপির জোটসঙ্গী জিএনএলএফ। তাতেই জল্পনা শুরু হয়েছে নতুন করে।

তবে এদিনের বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতারা ছিলেন না। মোর্চা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, জিএনএলফের নিজস্ব পার্টি প্রোগ্রাম ছিল বলে তারা আসতে পারেনি। তারাও শামিল হবে এই জোটে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এই সর্বদল বৈঠক ডাকলেও উপস্থিত ছিলেন না বিমল গুরুং বা রোশন গিরির মতো কোনো নেতা।
এদিনের বৈঠকে বিনয় তামাংকেও দেখা যায়নি। তিনি সম্প্রতি তৃণমূল ছাড়ার পর বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে গোর্খ্যাল্যান্ড আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। বিমল গুরুং ও অজয় এডওয়ার্ডের সঙ্গে যৌথ মঞ্চে সভাও করেছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল অনীত থাপার বিজিপিএম-তৃণমূলের জোটের বিরুদ্ধে পাহাড়ে বিরোধী মঞ্চ তৈরি করা।

এদিনের বৈঠকে জোটের পক্ষে সায় দেয় উপস্থিত সমস্ত দলই। কিন্তু উপস্থিত নেতারা জানান, চূ়ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শীর্ষ নেতারা। পরবর্তী আলোচনাতেই চূড়ান্ত হবে জোটের ভবিষ্যৎ। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমস্ত দলকে একত্রিত করে যে চেষ্টা করছে, তার ফল অচিরেই জানা যাবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
সম্প্রতি অনীত থাপার উত্থান হয়েছে পাহাড়ে। বিজিপিএম বা ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা নামে দল গড়েই তৃণমূলের সাহায্য নিয়ে তারা জিটিএ দখল করেছে। হামরো পার্টির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে দার্জিলিং পুরসভা। তাঁর উত্থানে সবাই ছিটে গিয়েছে পাহাড়ের রাজনীতি থেকে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে তাই তাঁকে হারাতে জোট বাঁধছে সবাই।












Click it and Unblock the Notifications