পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের সুর তুলে দিলেন গুরুং, ২০২৪-এর আগে বিজেপিকে চাপে রাখার কৌশল
পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই বিমল গুরুং সুর তুলে দিলেন গোর্খাল্যান্ডের। বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিজেপিকে চাপে রাখার কৌশল নিলেন তিনি। গোর্খাল্যান্ডের মতো বিচ্ছিনতাবাদী ইস্যুকে সামনে এনে পাহাড়ে সুর চড়ানো শুরু করে দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান।
বিজেপির টিকিটে দার্জিলিং থেকে নির্বাচিত বিধায়ক নীরজ জিম্বা গোর্খাল্যান্ডকে পৃথক রাজ্য বা পাহাড়কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি করেন। আর এবার সুযোগ বুঝে গোর্খাল্যান্ড দাবি তুলে দিলেন বিমল গুরুং। পাহাড়ে ফের গোর্খাল্যান্ড তাস খেলে পৃথক রাজ্যের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি।

বিমল গুরুং বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দিল্লি ডেকে নিয়ে গিয়ে শুধু ছবি তুললে হবে না। এবার পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে দিল্লিকে। আর সেই স্থায়ী সমাধান হল একটাই পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড। বিজেপি এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেখাতে হবে।
সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটে শামিল হয়েছিলেন গুরুং। সেই গুরুংকে সুর চড়াতে দেখে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। বিজেপি এই অবস্থায় গুরুংকে আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু গুরুং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর কথায় বিশ্বাস করতে চান না। তিনি চান এবার একটা স্থায়ী সমাধান হোক।
বিজেপি জানিয়েছে, আমাদের সাংসদ প্রচুর কাজ করেছেন পাহাড়ে। একটু ধৈর্য করলে সবই হবে আস্তে আসেতে। আমরা সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। এই অবস্থায় আবার প্রশ্ন উঠে গিয়েছে তাহলে কি বিজেপি বঙ্গভঙ্গের পক্ষে। বাংলা ভেঙে তারা কি তাহলে পৃথক রাজ্যের দাবিকে সমর্থন করছে?

তবে সে কথায় সন্তষ্ট নন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান। বিমল গুরুং এদিন চড়া সুরেই বলেন, বিজেপি পাহাড়ে থেকে কমদিন নির্বাচিত হচ্ছে না। তাহলে এত বছর ধরে পাহাড়ে বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি কেন? এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এবার সময় এসেছে। আশা করছি, স্বাধীনতা দিবসের দিন গোর্খাদের জন্য বড়ো কিছু ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গুরুং বলেন, ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করে। তখন ইস্তেহার ছিল পাহাড় সমস্যায় সমাধানের বিষয়টি। কিন্তু তারপর ১৪ বছর কেটে গেলেও আজও সমাধান হল না। সাংসদ রাজু বিস্ত বলেছিলেন শীঘ্রই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে, তাও হল না। এখন তাই দিল্লির উপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications