পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে হঠাৎই দিল্লি সফরে গুরুং, ফের ‘গোর্খাল্যান্ড’ জল্পনা তুঙ্গে
সম্প্রতি পাহাড়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। আর সেই প্রেক্ষিতেই গুরুংয়ের দিল্লি সফর কি না জল্পনা।
উপনির্বাচনের পর্ব শেষ। এবার সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এবার একইসঙ্গে পাহাড়ে হবে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুংয়ের দিল্লি সফর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি পাহাড়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। আর সেই প্রেক্ষিতেই গুরুংয়ের দিল্লি সফর কি না জল্পনা।
শুক্রবার দার্জিলিং থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিমল গুরুং। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই সফর রাজনৈতিক সফর নয়। নিতান্তই পারিবারিক সফর বলে মন্তব্য করেন তিনি। হরিদ্বারে কাজ সেরে তিনি দিল্লিতে যাবেন। তিনদিন পর তিনি ফিরবেন পাহাড়ে।

এদিন তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ফলাফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি রাজনৈতিক ইস্যুতে কোনো কথা বলতে চাননি। যা বলার ফিরে এসে বলবেন বলে জানান মোর্চা সুপ্রিমো। সম্প্রতি গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে তিনি পাহাড়তে জোটবদ্ধ করার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
বিমল গুরুংয়ের দিল্লি সফর নিয়ে জল্পনা শুরু হয় যে, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ডাক পেয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। গুরুংয়ের দিল্লি সফর মানেই যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে দাবি জানানো তা বুঝে গিয়েছে পাহাড়। গুরুংয়ের এই দাবি দীর্ঘদিনের। ২০১৭ সালে এই দাবিতেই তিনি পাহাড় উত্তপ্ত করেছিলেন।
সম্প্রতি পাহাড়ে পালাবদল হয়েছে। গুরুংয়ের হাত থেকে ক্ষমতা গিয়েছ অনীত থাপার হাতে। জিটিএ-তে এখন অনীত-রাজ। তার উপর হামরো পার্টিকে সরিয়ে দার্জিলিং পুরসভায় ক্ষমতায় এসেছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। তৃণমূলের সমর্থনে তারা পাহাড়ে ক্ষমতায় রয়েছে।
এই পালাবদলের পরই তৃণমূল ছেড়ে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন ছুড়েছিলেন বিনয় তামাং। তৃণমূলে থাকাকালীনই তিনি বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সুর চড়িয়েছিলেন। তারপর তৃণমূল ছেড়ে একটি সূত্রে পেয়েই পাহাড় বনধ ডাকলেন। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে এক মঞ্চে এসে বন্ধ ডাকলেন বিনয় তামাং ও হামরো পার্টির অজয় এডওয়ার্ড।
এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, পাহাড়ে ফের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন জানা বাঁধতে পারে। ২০১৭ সালে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড় উত্তপ্ত করার নেপথ্যে ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। তাঁর সঙ্গে তখন ছিলেন বিনয় তামাং। এখন পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড দাবিতে বনধ ডেকে উত্তপ্ত করার প্রধান কারিগর সেই বিনয় তামাংই। অবশ্য পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে সুড়সুড়ি দেওয়ার মূলে রয়েছেন গুরুং, তিনি এই বনধের নেপথ্যে থাকতে পারেন বলেই অভিমত রাজনৈতিক মহলের। তিনিই ফের যাচ্ছেন দিল্লি সফরে।












Click it and Unblock the Notifications