খারাপ রাস্তায় ঢোকে না অ্যাম্বুল্যান্স, খাটিয়ায় নিয়ে যাওয়া রোগীর মৃত্যু মালদহে

হাড় হিম করা ঘটনা? না কী লজ্জায় সভ্য সমাজের মুখ লুকিয়ে ফেলার ঘটনা? গ্রামের রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। সেজন্য খাটিয়ায় করে রোগীকে রাস্তা পার করাতে হয়। জ্বরে বেহুঁশ রোগীকে বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনা অন্য কোনও রাজ্যের নয়৷ পশ্চিমবঙ্গতেই হয়েছে এমন ঘটনা।

মালদহ জেলার বামনগোলা ব্লক। মালডাঙা গ্রামে ওই ঘটনা হয়েছে বলে খবর। সোশ্যাল সাইটে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ইতিমধ্যেই। দড়ির খাটিয়ার নিয়ে যাওয়া হয়েছে রোগীকে। রাস্তার হাল অত্যন্ত খারাপ। সেজন্য গ্রামে কোনওদিন অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। দীর্ঘ কাল ধরে এই অভিযোগ খোদ গ্রামবাসীদের।

খারাপ রাস্তায় ঢোকে না অ্যাম্বুল্যান্স, খাটিয়ায় নিয়ে যাওয়া রোগীর মৃত্যু মালদহে

রাজ্য সরকার, প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে মন্ত্রী, সান্ত্রি কারা দায়ী এই ঘটনার জন্য? রাস্তা কেন হল না? কাদের দিকে আঙুল তোলা উচিত? এই প্রশ্ন উঠছে। যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, খাটিয়াই দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রোগীকে।

মালদহের বামনগোলা ব্লকের মালডাঙা গ্রামের এই ঘটনা নাড়িতে দিয়েছে শিক্ষিত সমাজকে। গ্রামেরই গৃহবধূ মামনি রায়কে (১৯) নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। এর আগে মৃতদেহ কাঁধে করে দানামাঝিকে হেঁটে যেতে দেখেছিল ভারতবর্ষ। চলতি বছরে জলপাইগুড়ি জেলাতেও একটি ঘটনা হয়।

অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার টাকা ছিল না। বাবা ছেলের মৃতদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পাশে আরেক ছেলে। দুজনের চোখ দিয়েই জল গড়িয়ে পড়ছিল। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। এবার সামনে এল এই মালদার ঘটনা।

মামনি দিন কয়েক ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বলে খবর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। খাটিয়াতে শুইয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। শেষ রক্ষা হয়নি। বাঁচানো যায়নি মামনিকে। বাড়িতে তার ২ বছরের এক সন্তানও রয়েছে।

অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স রাস্তা খারাপের জন্য ভিতরে যেতে যায়নি। পরিবারের লোকেরা খাটিয়াতে দড়ি বেঁধে মামনিকে দীর্ঘ পথ নিয়ে গিয়েছেন। এমনই কথা চর্চায় উঠে আসছে। কেন গ্রামে ভালো পাকা রাস্তা নেই? কেন তিমিরে এমন এলাকা? প্রশ্ন উঠেছে।

রাস্তার জন্য বিডিও অফিসে বহুবার গিয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে প্রতিবার। কিন্তু রাস্তা আর হয়নি। রোগীরা অসুস্থ হলে তাহলে এমনভাবেই তিনি যেতে হয় হাসপাতালে? দায় কে নেবে?

তৃণমূল জেলা সহ সভাপতি জানান, এই ঘটনা জানা নেই। যদি ঘটে থাকে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির তরফে বিনা কীর্তনীয়া বলেন, পথশ্রীতে কোথায় রাস্তা হয়েছে? মামনির একটি ছোট সন্তান আছে। সে বড় হবে কীভাবে? কে দেবে উত্তর?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+