দুর্যোগ আর নেই পাহাড়ে, সাড়ে চার মাস পর দার্জিলিংয়ে ফের চালু টয়ট্রেন
শৈলশহর দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া এখন ঝকঝকে। দিন ও রাতের আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার। কাঞ্চনজঙ্ঘাকেও পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে খবর। শীতের তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে উত্তরের জেলাগুলোতে। নতুন করে আর কোনও দুর্যোগে আশঙ্কা করা হচ্ছে না। এই অবস্থায় আরও একটি সুখবর রবিবার পাওয়া গেল। আবার চালু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য টয়ট্রেন।
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার মাস পর চালু হল টয়ট্রেন। শীতকাল পাহাড়ের ভরা পর্যটনের সময়।পর্যটন মরশুমে চালু হল নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী এই হেরিটেজ ট্রেন পরিষেবা। রবিবার বেলা ১০টা নাগাদ এই ট্রেনের চাকা ফের গড়ালো। ছোট্ট রেল ইঞ্জিনের হুইসেল শোনা গেল পাহাড়ের রাস্তায়।

দেশ-বিদেশের পর্যটক সহ মোট ৩৫ জন যাত্রী এদিন প্রথম ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। ৩৫ জন যাত্রীকে নিয়ে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেয় ট্রেনটি। জলপাইগুড়ি থেকে রওনা দেয় এই ট্রেনটি। পথে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। বিকেলের পর নির্দিষ্ট সময়েই টয় ট্রেনটি দার্জিলিংয়ে পৌঁছায়। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই পদক্ষেপে বেজায় খুশি দেশ বিদেশের পর্যটকরা।
সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে যেমন পর্যটকরা এসেছেন। তেমনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা এদিন ভিড় জমান নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে। সকলেরই উদ্দেশ্য টয় ট্রেন চেপে শৈল শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা। টয়ট্রেনটির যাত্রার সূচনা করতে আসেন রেলের কাঠিহার ডিভিশনের ডিআরএম সঞ্জয় কুমার।
তিনি বলেন," কয়েক মাস বন্ধ থাকা অবস্থায় রেললাইনের সংস্কার হয়েছে। তাই বর্তমানে পথে বিঘ্ন ঘটার কোনও আশঙ্কা নেই। এছাড়াও বৃষ্টির মরশুম না থাকায় পাহাড়ে ধসের সেই রকম সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। " আগামী বছর পুজোর মরশুমে ডিএইচআর-এর তরফে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এখন থেকেই এর প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নেওয়া শুরু করবে রেল।
এদিন ডিআরএম সহ রেলের আধিকারিকরা সবুজ পতাকা নাড়িয়ে টয়ট্রেনের যাত্রার সূচনা করেন। দীর্ঘদিন পর অবশেষে টয়ট্রেন চালু হওয়াতে রেলের আধিকারিকরা খুশি। তেমনই বেজায় খুশি পর্যটকরা। চলতি বছরে পাহাড়ের আবহাওয়া বেশ খারাপ হয়ে যায় অতি বৃষ্টি দেখা যায় দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি জেলায়। রাস্তার বহু জায়গায় ধস নামে। জাতীয় সড়কের উপরেও রাস্তা বন্ধ থাকে বহু জায়গায়।
টয়ট্রেনের লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পাহাড়ে ক্রমাগত ধস নামায়। সেই পরিস্থিতিতে গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় এই ট্রেন পরিষেবা। আবার চালু করা হয় পৃথিবীর অন্যতম হেরিটেজ।












Click it and Unblock the Notifications