বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক, মুখোশ খুলে দিলেন বিজেপির
বিজেপি অসমে, ত্রিপুরায় বলছে রাজ্যভাগ চাই না, এখানে রাজ্যভাগে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। বিজেপির বাংলার ভাগের এই চক্রান্তকে রুখে দিতে হবে।
বিজেপির বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙার জনসভা থেকে বাংলা বিভাজনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি নিশানা করলেন বিজেপিকে। এরপর অভিষেক বলেন, এই সমাবেশ বিজেপির বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানুষের জবাব দেওয়ার সমাবেশ।
তিনি বলেন, বিজেপির বাংলার নেতা সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সর্বভারতীয় স্তরের নেতা জেপি নাড্ডা, অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসে এক মঞ্চে এসে বলুন উত্তরবঙ্গ পৃথক রাজ্য চাই। তাহলে তারপর থেকে আমি উত্তরবঙ্গে মুখ দেখাব না। বিজেপি অসমে, ত্রিপুরায় বলছে রাজ্যভাগ চাই না, এখানে রাজ্যভাগে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। বিজেপির বাংলার ভাগের এই চক্রান্তকে রুখে দিতে হবে।

মাথাভাঙায় সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে একটাই বঙ্গ, তা হল পশ্চিমবঙ্গ। আর এটা হল বাংলাকে এক মঞ্চে বাঁধার সমাবেশ। পরিবর্তনের সমাবেশ। কোচবিহারের মাটিতে পালাবাদলের সমাবেশ। এই সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, দার্জিলিং থেকে দেগঙ্গা, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাই বাংলা। কোনও উত্তরবঙ্গ, গৌড়বঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ নয়, পশ্চিমবঙ্গ।
অভিষেক বলেন, ২০১৯-এর লোকসভা ও ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে আমাদের ভুলত্রুটির কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে আমি করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু সেই ভুল আমরা শুধরে নিয়েছি। এই মঞ্চ থেকে বলে যাচ্ছি, সাধারণ মানুষ যাকে সার্টিফিকেট দেবে, তাকেই প্রার্থী করা হবে।
তিনি বলেন, কোন দাদা-দিদির সুপারিশ মানা হবে না। প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে বলে যাচ্ছি দু-একজনের জন্য সম্মান নষ্ট হলে তা সহ্য করব না। যে যত বড় নেতার ছত্রছায়ায় থাকুক না কেন, কারও রেহাই নেই। দলকে কলুষিত করলে তার শাস্তি পেতে হবে।

অভিষেক বলেন, শুধু ভোট চাইতে এখানে আসিনি। এখানে এসেছি আপনাদের ন্যায়-বিচার দিতে। এরপরই তিনি সামনে আনেন বিএসএফের গুলিতে নিহত রাজবংশী যুবক প্রেমকুমার বর্মনের ঘটনায। প্রেমকুমারের শোকবিহ্ল মা-বাবা-দাদাকে মঞ্চে তুলে তিনি ব্যক্ত করেন সেই করুণ কাহিনি।
অভিষেক বলেন, বিএসএফ জঙ্গি সন্দেহে গ্রামের নিরীহ ২৩ বছরের যুবককে হত্যা করেছে। দিনহাটায় রাজবংশী যুবককে পেলেট গান থেকে গুলি করে খুন করেছে বিএসএফ। তাঁর অপরাধ ছিল সকাল সাতটার সময় একা মাঠে ঘুরছিল। তার কাছে না পাওয়া গিয়েছে কোনও অস্ত্র, না পাওয়া গিয়েছে গরু, না সোনাদানা।
প্রেমকুমারের মা-বাবা ও দাদাকে পাশে নিয়ে অভিষেক বলেন, এই গটনার বিচার চাই। এর শেষ দেখতে চাই। এই অসহায় মা-বাবার চোখের জল মোছাতেই আমি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব। জনগণের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমরা পাশে থাকবেন তো। তাহলেই এই লড়াইয়ে সুবিচার আদায় করেই ছাড়ব।
তিনি গর্জে উঠে বলেন, ৪৮ ঘণ্টা মধ্যে জবাব চাই। স্ট্যান্ড ক্লিয়ার করুক বিজেপি। কেন গুলি করা হল জবাব দিক। কী নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রমে কুমারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সঙ্গে করে এনেছি। একজন গ্রামের সরল সাদাশিধে যুবককে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের ওই পেলেন গান দিয়ে গুলি করা হয়।
অভিষেক বলেন, এমনভাবে গুলি করা হয়েছে যে, শরীরে এতটুকু রক্ত ছিল না। ১৮০টা গুলির টুকরো পাওয়া গিয়েছে প্রেমকুমারের শরীর থেকে। তাই এর বিচার চাইবেন না আপনারা। চলুন আপনাদের সঙ্গে আছি। তখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাউ হাউ করে কাঁদছেন প্রেমকুমারের মা। তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দিলেন অভিষেক। পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখেল জল মুছাতে মুছাতে তিনি অভয় দিলেন সবাইকে। দিলেন পাশে থাকার বার্তা, শেযপর্যন্ত লড়াই করার সাহস।












Click it and Unblock the Notifications