Siliguri: যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ১৯ বছর পর সাজা ঘোষণা, ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার ঘটনায় ১৯ বছর মামলা চলার পর চারজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা ঘোষণা হলো জমি নিয়ে বিবাদের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় বৃহস্পতিবার চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের বিচারক।
শুক্রবার অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন বিচারক। অভিযুক্তরা হলো কুঞ্জ সিংহ, ভারতী সিংহ, বিদেশ সিংহ ও সুনীল সিংহ। জানা গিয়েছে প্রায় ১৯ বছর আগে খড়িবাড়ির জনৈক উত্তম সরকারের জমিতে বর্গা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো কুঞ্জ সিংহ ও তার পরিবার। সেই উৎপন্ন ফসলের ভাগ উত্তম সরকারকে সঠিকভাবে দিত না তারা।

তখন তাদের জমি ছাড়তে বললেও জোর করে জমি দখল করার চেষ্টা করছিল অভিযুক্তরা। এরপর খড়িবাড়ি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্তমবাবু অভিযোগ জানায়। তবে অভিযোগ জানানোর পরেও জোর করে উত্তমবাবুর জমি দখল করার চেষ্টা চালায় কুঞ্জ সিংহ ও তাদের বাকি সহযোগীরা। উত্তমবাবুর ছেলে রূপাতণ সরকার বাধা দিতে গেলে তার উপর লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্তরা।
হামলার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় উত্তমবাবুর। খুনের অভিযোগে দুই নাবালক সহ মোট ছ'জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর মামলা চলার পর এদিন চারজনের সাজা শোনান ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শরৎ কুমার ছেত্রী।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অনিন্দিতা গুহ, জানান ঘটনাটি ঘটেছিল, ২০০৫ সালে খড়িবাড়ি থানার রানীগঞ্জ পানিশালী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। উত্তম সরকারের জমিতে কুঞ্জ সিংহের পরিবার বর্গা হিসেবে কাজ করতো। তারা ঠিক মতো চাষের ফসল পরিবারটিকে না দেওয়া তাদের জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তারপরেও পরিবারটি সেই জমি দখলের চেষ্টা করে।
উত্তম সরকারের পরিবারের বড় ছেলে রুপাতন সরকার বাধা দিতে গেলে। তাকে একা পেয়ে গোটা পরিবার লাঠি সোটা ও দাঁড়ানো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক কিছুক্ষণ পরে তার মৃত্যু হয়। উত্তম সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজন নাবালক সহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ।
মামলা চলাকালীন ২০০৮ সাল থেকে এরা জামিনে মুক্ত ছিল । তবে ২৫ জন সাক্ষীর সওয়াল জবাবের পর গতকাল তাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বিচারক তাদের দোষই সাব্যস্ত করেন। ৩০২ ধারা মতে আজ দোষী চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন বিচারক। সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। ফাস্টট্রাক কোর্টে বিচারক শরৎকুমার ছেত্রীর এজলাসের এই সাজা ঘোষণা হয়।












Click it and Unblock the Notifications