পাঠান VS রবিনহুড: বহরমপুরে এবার চূড়ান্ত লড়াই, জেনে নিন এই কেন্দ্রের ইতিবৃত্ত
বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র। সারা দেশের ৫৪৩ টি আসনের মধ্যে এবং বাংলার ৪২ টি আসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখান থেকে এবারও লড়াইয়ে সামিল গত পাঁচবারের সাংসদ অধীর চৌধুরী। এই কেন্দ্রটি এই কারণেও গুরুত্বপূর্ণ, তৃণমূল এই আসন এখনও পর্যন্ত একবারও দখল করতে পারে। এবার তারা এই আসনে প্রার্থী করেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন সদস্য ইউসুফ পাঠানকে।
পশ্চিমবঙ্গের অন্য কেন্দ্রগুলির মতো এই মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত বহরমপুরেও সাতটি বিধানসভা রয়েছে। এই সাতটি কেন্দ্র হল বরোঞাঁ, কান্দি, ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, বহরমপুর ও নওদা।

- টানা দখলে ছিল আরএসপির
বহরমপুর আসনটি একটা সময় টানা বাম দল আরএসপির দখলে ছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামী ত্রিদিব চৌধুরী ১৯৫২ সাল থেকে টানা ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আসনটি নিজের দখলে রেখেছিলেন। ১৯৮৪-র নির্বাচনে ত্রিদিব চৌধুরী কংগ্রেসের অতীশ সিনহার কাছে পরাজিত হন। তবে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত এই আসনটি ফের আরএসপির দখলে যায়। সাংসদ হয়েছিলেন ননী ভট্টাচার্য এবং প্রমোথেশ মুখোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই কেন্দ্রে একটা সময় (১৯৯৬) প্রার্থী ছিলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। যদিও তিনি ওই বছরের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
- গত পাঁচবার সাংসদ অধীর চৌধুরী
১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন অধীর চৌধুরী। এরপর পরপর ২০০৪. ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯-এর নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। ১৯৯৯-এর নির্বাচনে তিনি আরএসপির প্রমোথেশ মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হন। ২০০৪ এবং ২০০৯-এর নির্বাচনে তিনি সেই প্রমোথেশ মুখোপাধ্যায়কেই পরাজিত করেন। আর ২০১৪ এবং ২০১৯-এর নির্বাচনে তিনি পরাজিত করেন যথাক্রমে ইন্দ্রনীল সেন এবং অপূর্ব সরকারকে।
- ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুরের অধীনে সাতটি বিধানসভা এলাকার মধ্যে একটি মাত্র কেন্দ্র বহরমপুর দখল করেছিল বিজেপি। বাকি ছয় আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস কিংবা বামেরা কোনও আসনই পায়নি।
- ইতিহাস-ভূগোল
২০১১-এর আদমসুমারি অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৭১ লক্ষ। এই জেলারই জেলা সদর হল বহরমপুর। এই জেলা একটা সময় বাংলার নবাবদের ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। তবে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হওয়ার পরে বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করে ইংরেজরা।
মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তরে রয়েছে মালদহ জেলা। উত্তর-পশ্চিমে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জদ, পশ্চিমে বীরভূম, দক্ষিণ-পশ্চিমে বর্ধমান এবং দক্ষিণে নদিয়া জেলা। পূর্ব দিকে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমানা অর্থাৎ বাংলাদেশ।
- অর্থনীতি
জেলার অর্থনীতি কৃষির ওপরে নির্ভরশীল। এছাড়াও যে শিল্প সেখানে বড়, তা হল বিড়ি শিল্প। এছাড়াও সেখানে রেশন ও তাঁত শিল্প রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার বহু মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে .তাঁরা রাজ মিস্ত্রি কিংবা জোগাড়ের কাজ করেন।
(তথ্য সহায়তা উইকিপিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications