West Bengal Panchayat Election 2023: কথা রাখলেন তৃণমূল বিধায়ক, ভোট প্রচার নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে
মনোনয়ন পর্ব থেকেই বেসুরো বাজছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী ও চেয়ারম্যান প্রা্রথী ছিক করেছিলেন। একজন বিধায়ক অনুগামীকেও টিকিট দেননি তাঁরা। তারপরই দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে ভোট প্রচারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
সেই কথা তিনি রাখলেন। ভোট প্রচারে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দলের নির্দেশের বাইরে গিয়েই নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট প্রচার শুরু করলেন তৃণমূল বিধায়ক। ভরতপুর এক নম্বর ব্লকের সিজগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সৈয়দকলুট গ্রামে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার সারলেন তিনি।

বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার বিকেলে সৈয়দকুলুট গ্রামে মিছিল ভোট প্রচার করার পর একটি পথসভা করেন। সেই পথসভা থেকে সরাসরি তিনি ভরতপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি থেকে শুরু করে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী ও চেয়ারম্যানকে পর্যন্ত নিশানা করেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি শাওনি সিংহ রায় ও চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তৃণমূলের ভরতপুরের বিধায়র হুমায়ুন কবীর মানুষের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য নির্দলকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন।
হুমায়ুন কবীর বলেন, আগামী ৮ তারিখ পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ভরতপুরজুড়ে চোর ও লুটেরাবাজদের দিন শেষ হবে। ভরতপুরের বিধায়কের এই ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে। এবার মুর্শিদাবাদে বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূলের বড়ো সমস্যা হয়ে গিয়েছে দলের বিক্ষুব্ধরা।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে ভরতপুরের তৃণমূল বিধাযক হুমায়ুন কবীর বিদ্রোহ ঘোষণা করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার দিন রণে ভঙ্গ দিয়ে সুড়সুড় করে হাজির হন সভাস্থলে। তিনি একা নন, তাঁর বিদ্রোহের সঙ্গীরাও হাজির হলেন অভিষেকের সভায়। তৃণমূল বনাম তৃণমূল যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিত পেয়েছিল রাজনৈতিক মহল।
কিন্তু অভিষেক আসতেই বরফ গলে খানিক জল হলেও হুমায়ুন তাঁর সিদ্ধান্ত অনড় থেকে নির্দলের সমর্থনে প্রচারে নামলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে হুমায়ুন কবীরর নেতৃত্বে তৃণমূলের চার বিধায়ক বিদ্রোহ করেছিলেন। বিধায়ক-অনুগামীদের পঞ্চায়েতের টিকিট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তাঁরা আঙুল তুলেছিলেন দলের সভানেত্রী শাওনি সিংহরায় ও চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকারের দিকে।
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একের পর এক বাণ ছেড়েছেন তিনি। তাঁর পথ ধরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, জলঙ্গির বিধায় আবদুর রেজ্জাক ও নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ। এরপর হুমায়ুনের ছেলে ও মমতাজের মেয়ের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অন্য বিধায়করা রাস্তায় না নামলেও হুমায়ুন বিদ্রোহ জারি রাখলেন।












Click it and Unblock the Notifications