অধীর-গড়ে বিদ্রোহের আঁচ তৃণমূলে! বেসুরো বিধায়করাই কি অশনি সংকেত ২৪-এ
পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূলে বিদ্রোহের আঁচ তীব্রতর হচ্ছে। তবে কি এই বিদ্রোহের আঁচ এবারও লোকসভা নির্বাচনে পড়বে। শুধু নীচুতলার নেতা-কর্মীদের বিদ্রোহেই সেষ নয়, বেসুরো বাজছেন অনেক বিধায়কও! রাজনৈতিক মহলের একাশ মনে করছে পঞ্চায়েত ভোটের পর লোকসভা নির্বাচনেও তা বুমেরাং হতে পারে।
২০১৯-এর লোকসভাতেও তা টের পেয়েছিল তৃণমূল। ২০১৮-র নির্বাচনে যা ঘটেছিল, তা বাংলার মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। এবার কি তারা মেনে নেবে? এবার ২০১৮-র তুলনায় হিংসা কম ঠিকই, কিন্তু হিংসা তো হয়েছে, মনোনয়নে বাধা তো দিয়েছে, তারপর তৃণমূলে টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ চূড়ান্ত।

এই বিদ্রোহের আগুন এতটাই তপ্ত হয়েছে যে চার বিধায়কও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অধীর-গড়ের তার বিধায়কের ক্ষোভফ কিন্তু তৃণমূলের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। আর যাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে, তাঁরা আদতে সবাই-ই অধীর চৌধুরীর লোক ছিলেন। এখন সেইসব বিধায়করা যদি বেঁকে বসেন, তবে তৃণমূলের পরিষদয়ী দলেও থাবা বসাতে পারে কংগ্রেস।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী নিশ্চয়ই ২০২৪-এ নিজের জেলা মুর্শিদাবাদে কামব্যাকের চেষ্টা করবেন। তিনি এমনই চাল চালবেন, যাতে তিনি তাঁর এতদিনের গড়ে নিজের প্রভবা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেন। সে জন্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখানো নেতারাও যে ঢলতে পারেন অধীরের দিকে, তা বলাই যায়।

সম্প্রতি সাগরদিঘি উপনির্বাচনে ট্রেলার দেখিয়েছেন অধীর চৌধুরী। বামন জমানার পর থেকে পর পর তিনবার জেতা আসন তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেস বায়রন বিশ্বাসকে সাগরদিঘি থেকে বিধানসভা পাঠিয়ে শূন্যের গেরো কাটিয়েছিল। কিন্তু বায়রনকে তাঁরা ধরে রাখতে পারেননি। তা বলে কংগ্রেসের আধিপত্য, শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে জয় খর্ব হয়ে যায় না।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও যে তেমনটা হবে না তা জোর দিয়ে বলতে পারবেন না কেউ। অধীর মুর্শিদাবাদে ম্যাজিক দেখাতে পারেন। আর যদি তিনি পঞ্চায়েতে তৃণমূলের কোন্দল কাজে লাগাতে পারেন, বেসুরোদের টানতে পারেন নিজের দিকে, তাহলে তৃণমূল হালে পানি পাবে না নবাব-গড়ে।
সম্প্রতি পঞ্চায়েতেকর মনোনয়ন পর্বে টিকিট না পেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার চার তৃণমূলের বিধায়ক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ দিনে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলের মুর্শিাবাদ জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও চেয়ারম্যানের দিকে।

বেসুরোদের তালিকায় ছিলেন ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ বেগম, রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী ও জলঙ্গির বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক। তৃণমূলের কোন্দল প্রকট হয়ে ওঠে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের জেরে। সরাসরি অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তাঁরা।
এখন দেখার এই বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের আঁচ কতটা লাগে তৃণমূলের গায়ে। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের ফলে আদৌ কোনো প্রভাব পড়ে কি না। এরপর লোকসভার জন্য অধীর চৌধুরীরা যখন ঝাঁপাবেন, তখন তাঁর অনুগামী নেতারা তৃণমূলে আলো বিদ্রোহী হয়ে উঠবেন কি না তা ভবিষ্যৎই বলবে।












Click it and Unblock the Notifications