সাগরদিঘিতে কংগ্রেসের কাছে হারের জের! পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী পদচ্যুত পঞ্চায়েতের আগে
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে হার স্বীকার করতে হয়েছে তৃণমূলকে। পরিবর্তনের পর যে কেন্দ্রে কোনোদিন হারেনি তৃণমূল, সেই কেন্দ্রেই তৃণমূলকে মাটি ধরিয়ে দিয়েছিল কংগ্রেস। বামেদের সমর্থন নিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল তৃণমূলকে।
কংগ্রেসের বায়রন বিশ্বাসের কাছে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর উপর অবশেষে খাঁড়া নেমে এল। তিনি পদচ্যুত হলেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে। সাগরদিঘি তৃণমূলে বড়সড় রদবদল হয়ে গেল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদ সফরের পরেই সাগরদিঘিতে তৃণমূলের নতুন ব্লক সভাপতি পদে করা হল পরিবর্তন।

সাগরদিঘিতে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ছিলেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকেই এবার প্রার্থী করা হয়েছিল উপনির্বাচন। তিনি কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর ব্লক সভাপতি পদ খোয়ালেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হল শামসুল হুদাকে। অর্থাৎ সংখ্যালঘু ব্লক সভাপতি করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা তৃণমূলের।
কংগ্রেসের কাছে উপনির্বাচনে তৃণমূলের হারের অন্যতম কারণ মনে করা হচ্ছিল সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক পিছলে যাওয়া। সেই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতেই কি পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে সরিয়ে সাংঠনিক পদে সংখ্যালঘু মুখ আনা হল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
বিধানসভা উপনির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়ে দলের অন্দরেই। অবশেষে দেবাশিসকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল দল। ব্লক সভাপতি করা হল শামসুল হুদাকে। বুধবার তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান, চেয়ারম্যান কানাই চন্দ্র মণ্ডল সাংবাদিক বৈঠক তা ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মে থেকে ৮ মে জেলা সফর করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফরের পর বুধবার জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি খলিলুর রহমান, চেয়ারম্যান কানাইচন্দ্র মণ্ডল ব্লক সভাপতি বদলের কথা ঘোষণা করেন। সাগরদিঘির নতুন ব্লক সভাপতি হয়েই শামসুল হুদা পঞ্চায়েত ভোটে সবাইকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা দিয়েছেন।
শামসুল হুদা দলের দায়িত্ব নিয়েই জানিয়ে দিয়েছেন, সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের থেকে সরে যায়নি. তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে। এই কেন্দ্রে হারের প্রধান কারণ হল সাংগঠনিক দুর্বলতা। বলতে পারেন, আমরা শুভেন্দু অধিকারীর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করলাম। তিনি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় দলের পর্যবেক্ষক ছিলেন।
সাগরদিঘিতে অনেকাংশে বুথ কমিট গড়া হয়নি, অঞ্চল কমিটি নেই। তার কেসারত দিতে হল। দলকে সাংগঠনিকভাবে মজবুত না করে দুর্নীতি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। দলের একাংশ সঠিক কাজ করেনি। অস্বীকার করে লাভ নেই। আমরা এবার সেইসব ভুল শুধরে এক হয়ে লড়ব।












Click it and Unblock the Notifications