সাগরদিঘির নির্বাচন কপালে ভাঁজ ফেলেছে তৃণমূলের, বিজেপির সঙ্গে টার্গেট তাই বাম-কংগ্রেসও
গায়ের জ্বালা মেটাতেই সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর তৃণমূল নেতারা একের পর এক নিশানা করছেন বিরোধীদের। বাম-কংগ্রেস ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা।
এখন আর শুধু বিজেপি নয় বাম-কংগ্রেসকেও সমীহ করতে হচ্ছে তৃণমূলকে। বিজেপি বারবার বাম-কংগ্রেসকে আহ্বান জানাচ্ছে মমতা-বিরোধী অঘোষিত জোট করে চলার। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে হারাতে বাম-কংগ্রেসকে আহ্বান জানাচ্ছেন। আর বিরোধীদের এই একজোট হওয়ার চেষ্টাকে সমীহ করতে বাধ্য হচ্ছে তৃণমূল।
তার কারণ কিন্তু সাগরদিঘি উপনির্বাচন। এই উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট হয়েছিল ঘোষিতই। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিজেপিও কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে, তাই জিতেছে কংগ্রেস। তৃণমূল হেরেছে। ওরা তৃণমূলকে হারাতে অনৈতিক জোট করে লড়েছে।

আর তার পাল্টা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কেন ২০২১-র আগে তো নো ভোট টু বিজেপির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাহলে কেন নো ভোট টু মমতা ডাক দেওয়া যাবে না। বিজেপি-বিরোধী জোট করতে আপত্তি নেই, তৃণমূল-বিরোধী জোট করলেই গায়ের জ্বালা।
গায়ের জ্বালা মেটাতেই সাগরদিঘি উপনির্বাচনে হারের পর তৃণমূল নেতারা একের পর এক নিশানা করছেন। সোমবার কামারহাটি থেকে একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি জানান, বিজেপিকে নয়ে বাম-কংগ্রেস যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলে ওদের আস্তিন গুটিয়ে দেবো।
এদিন একপ্রকার বাম ও কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দেন মদন মিত্র। এদিন একটি মিছিল থেকে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম, কংগ্রেস ও বিজেপি আঁতাত করেছে বলে অভিযোগ করেন। বিজেপিকে নিয়ে বাম-কংগ্রেসের বাড়াবাড়ি তিনি যে সগ্য করবেন না তা স্পষ্ট করে দেন মদন মিত্র। তার সাফ কথা, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফের ঘরে ঢুকিয়ে দেবো।
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ এক জোট হয়ে তৃণমূলের মোকাবিলার বার্তা দেন। তা নিয়েও এদিন রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অধীর চৌধুরী বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, বিজেপি যে বাংলায় শেষের পথে, তা বোঝা যাচ্ছে তাদের কথাতেই। বাম-কংগ্রেসই তৃণমূলের বিকল্প।
সম্প্রতি সাগরদিঘি উপনির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের যুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। বাকযুদ্ধ এমন পর্যায়েই যায় যে কংগ্রেস নেতা কৌস্তুভ বাগচিকে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়। তা নিয়ে চাপানউতোর চলছে এখনও। জামিন পাওয়ার পর কৌস্তভ দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অদীর চৌধুরীর কছে ক্ষমা চান, তাহলে আমি মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে নেবো।
এদিকে তৃণমূল বিধায়ক ইদ্রিশ আলি হুঁশিয়ারি দেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বই লিখে যদি কেউ অপপ্রচার করার চেষ্টা করে, তাঁর বা তাঁদের হাত, পা কেটে নেওয়া হবে এবং জিভও কেটে নেওয়া হবে। বিধায়ক ইদ্রিস আলি আরো বলেন, অসভ্য বর্বর বিজেপি,জামা খোলা কংগ্রেস অধীর চৌধুরীর, দুধে সোনা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষরা আবার যদি মিথ্যাভাবে বই প্রচার করে, তাদের মুখমণ্ডলটা পালটে দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications