মুর্শিদাবাদে তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা! দলবদল করতে ৫০ লক্ষ নিয়েছিলেন বর্তমান বিধায়ক, বিস্ফোরক শুভেন্দু
সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন। তারই প্রচারে গিয়ে তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি বলেন, একটা চোর পরিবার গোটা রাজ্যকে শোষণ করে চলেছে।
সাগরদিঘিতে লড়াই এবার বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের। এদিন ভোট প্রচারে গিয়ে এমনটাই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা তাঁর হাত ধরেই। পাশাপাশি তিনি জেলা তৃণমূলে এক বিধায়ককে নিশানা করে বলেছেন, দলবদল করতে তিনি নিয়েছিলেন ৫০ লক্ষ টাকা।

মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা তাঁর হাতেই
২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল জমানত জব্দ হয়েছিল। তৃণমূল রাজ্যে ২০১১-তে ক্ষমতায় আসলেও মুর্শিদাবাদে তাদের ক্ষমতা পেতে ২০১৯ সাল হয়ে যায়। তিনিই যে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠার কাণ্ডারী তাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, না খেয়ে মুর্শিদাবাদে তিনি তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সংখ্যালঘুদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন।

দলবদলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেষ্ট মণ্ডল বলতেন, উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে। সেই কেষ্ট মণ্ডল আজ বিড়াল থেকে অধম। নবগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, চোর কানাই একটু সাবধান। তাঁর সমস্ত ঠিকুচি-কুষ্টি শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই রয়েছে। তৃণমূলে যোগ দিতে কানাইচন্দ্র মণ্ডল ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরা সবাই তাঁর হাত ধরে তৃণমূলে গিয়েছেন, বলেন বিরোধী দলনেতা।

লড়াই বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনজাতিকে সম্মান দিয়ে দ্রৌপুদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করেছে বিজেপি। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা যে উপনির্বাচন নিয়ে কোনও ভয় না পান, বলেন তিনি। তিনি দাবি করেন, এবার সাগরদিঘির নির্বাচনে লড়াই বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের। সেখানে তৃণমূলের কোন অস্তিত্ব নেই। তিনি কটাক্ষ করে বলেন. চোরের দল ঘরে চলে যাবে। আজ পঞ্চায়েতের একটা কাজ শুধু চুরি করা। একটা চোর পরিবার গোটা রাজ্যেকে শোষন করছে, বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, গরু পাচার মামলায় মুর্শিদাবাদের এমন কোনও ওসি-আইসি নেই যিনি একবারও নিজাম প্যালেসে যাননি।

গোটা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন মমতা
শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় সামনে রাখা হয়েছিল। গোটা ব্যবস্থা যদি ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে তা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ডিয়ার লটারি কী ভাবে ধ্বংস করছে, এবারের মাধ্যমিকে গতবছর এর থেকে চার লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কম। এরপর তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা তুলে কটাক্ষ করে বলেন, এপাং ওপাং ঝপাং, আমরা সবাই কোলা ব্যাঙ।
প্রশ্নের উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা বলেন, বিবিসি নিয়ে তদন্ত করছে আয়কর দফতর। অবৈধ ভাবে যদি কিছু থাকে তার তদন্ত করছে। এব্যাপারে কারও কিছু বলার নেই। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএ কর্মচারীদের অধিকার, তা তাঁরা পাবেন, আশ্বস্ত করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications