মাঝ রাতে দেবীর ডাকে সারা, এভাবেই শুরু হয় এই পরিবারের পুজো
মাঝ রাতে দেবীর ডাকে সারা, এভাবেই শুরু হয় এই পরিবারের পুজো
মুর্শিদাবাদের বনেদি পুজোর গ্রাম হল জজান । বেশ কয়েকটি জমিদার বাড়ি তাদের প্রাচীন পারিবারিক পুজো আজও নিষ্ঠা ভাবে সম্পন্ন করে। আর এই জজান গ্রামের প্রাচীন বনেদি পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল দত্ত বাড়ির পুজো।

ইতিহাস
১৮৪ বছরের প্রাচীন দত্ত বাড়ির পুজো শুরু করেন বাবু প্রাণ কৃষ্ণ দত্ত ১৮৩৮ সালে । প্রাণ কৃষ্ণ দত্ত তখন জজানের জমিদার, তখন তাঁর বিশাল জমিদারি ,কলকাতা এবং বোলপুরে তাঁর ব্যাবসা ছিল । কথিত আছে, মা মধ্যরাতে ওঁনাকে দেখা দিয়ে পুজো শুরু করবার আদেশ দিয়েছিলেন । সেইসময় থেকেই নিয়মনিষ্ঠা মেনে হয়ে আসছে দত্ত বাড়ির দুর্গাপুজো ।

প্রতিমা
একচালা ও দশভুজা এই হল মায়ের প্রতিমার চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য । এই বাড়ির প্রতিমায় ঘোড়া সিংহ দেখা যায়। বৈষ্ণবমতে হয় মায়ের পুজো | পুজোর চারদিন হয় চন্ডীপাঠ । ষষ্ঠীর দিন ঘট ভরা হয় । বোধনের দিন থেকে নবমীর দিন পর্যন্ত ভোরে নহবতের সানাই ও সান্ধ্য টেকরা বাজানোর রীতি আজও অমলিন। যদিও আগে পুজোয় ঠাকুর মন্দিরে বেলজিয়াম গ্লাসের ঝাড়বাতির শোভা ও গুলির শব্দে মহাষ্টমীর পুজো সূচনার রীতি আজ আর নেই ।

ভোগ
পুজোর চারদিন লুচি,নারকেল নাড়ু, সন্দেশ, আলু ভাজা,বেগুন ভাজা,শাক ভাজার ভোগ দেওয়া হয়। পুজোর প্রত্যেকদিন মা দুর্গা কে ৭ টি গ্লাসে সরবত নিবেদন করা হয় ।

নিয়ম
প্রাচীন নিয়ম অনুসারে, আজও জজান গ্রামের প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিদিন ঢাক ঢোল বাদ্য সহ পুজা সমাপনান্তে প্রতিটি মণ্ডপ পরিভ্রমণ করেন এবং দৈনন্দিন পূজা নির্বিঘ্নে সমাপনের তত্ত্ব তল্লাস করেন। এছাড়াও নবমীর রাতে একই প্রথায় গ্রামের সমস্ত মন্ডপে ঢাক ও বাদ্যসহ পরিভ্রমণের মধ্য দিয়ে প্রীতি প্রাগাঢ়ত্ব আত্মিক মেলবন্ধনের মধ্যে পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের দুর্গোৎসবকে গড়ে তোলেন মহামহিম সার্থক সুন্দর । এক অতিপ্রাচীন ঐতিহ্য যা আজকাল সচরাচর চোখে পড়ে না , যা জজান গ্রামবাসীগণ ধরে রেখেছেন । এভাবেই জজানের দুর্গাপুজো আজও তাদের বনেদিয়ানা এবং ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
দশমীর ঘট বিসর্জনের পর ঠাকুর দালানে অপারাজিতা ও মোহর পুজো হয়।
আগে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরুর সময় দত্ত ও চন্দ্র এই দুই জমিদার বাড়ির প্রতিমা বাইচ করা হত । তারপর এই দুই জমিদার বাড়ির প্রতিমা লেঠেলদের কাঁধে করে একসাথে শোভাযাত্রা হত ।কিন্তু পরবর্তীকালে চন্দ্র বাড়ির পুজো বন্ধ হওয়ার পর দত্ত বাড়ির এই নিয়ম এখনও চলে আসছে । দত্ত বাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয় গ্রাম্যদেবী সর্বমঙ্গলা মাতার মন্দির সংলগ্ন দেবকুন্ড জলাশয়ে ।
এভাবেই নিয়ম-আচার,ভক্তি,রীতি মেনে বছরের পর বছর মায়ের আরাধনায় ব্রতী দত্ত বাড়ির সকল সদস্য ।












Click it and Unblock the Notifications