Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

চব্বিশের গেরোয় ঘর বাঁধেন মা দুর্গা, কৈলাসে ফেরেন ২৪ কাঁধে চড়ে

চব্বিশের গেরোয় ঘর বাঁধেন মা দুর্গা, কৈলাসে ফেরেন ২৪ কাঁধে চড়ে

২৪ টি রসগোল্লা, ২৪ টি লুচি, ২৪ টি আলুভাজা খেয়ে পূজোর চারদিন কাটিয়ে ২৪ জন বাহকের কাঁধে চেপে কৈলাসে ফিরে যাওয়া. এভাবেই ১৪০ বছরে পা দিয়েছে নবদ্বীপের চন্দ্র বাড়ির দুর্গাপূজো। এক সময়ে বড়, মেজ আর ছোট শরিকের মিলিত উদ্যোগে চন্দ্রবাড়ির পূজো ছিল এলাকার অন্যতম সেরা পূজো। কয়েক বিঘা জমির উপর প্রাসাদের মত বাড়ির ঠিক মাঝখানে নাটমন্দিরে চন্দ্রদের মা দুর্গা আলো করে থাকত। সেকালে নবদ্বীপে বনেদি বড়লোকদের বাড়ির পূজো নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা।

স্বর্ণব্যবসায়ী শ্রী নীলমণি চন্দ্রের পূজো

স্বর্ণব্যবসায়ী শ্রী নীলমণি চন্দ্রের পূজো

স্বর্ণব্যবসায়ী শ্রী নীলমণি চন্দ্রের পূজোর সমারোহের ধারে কাছে ঘেঁষতে পারত না কেউ। নীলমণিবাবু নবমীর দিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কয়েক হাজার কাঁঙালি ভোজন করাতেন। সেই সব বাস্তিব যা আজ গল্পকথা মনে হবে তা জানিয়েছেন শ্রী নীলমণি চন্দ্রের ষষ্ঠ পুত্র শ্রী সুশোভন চন্দ্র।

পুজো অব্যাহত রয়েছে

পুজো অব্যাহত রয়েছে

পরিবারের লোক সংখ্যা কমতে কমতে হাতে গোনা, তবুও কোনওমতে পূজো অব্যাহত রেখেছেন সুশোভন বাবু এবং তাঁহার জেঠতুতো ভাই শ্রী সৃজিত চন্দ্র। পূজোর সূচনার ইতিহাস সম্বন্ধে সুশোভন বাবু জানালেন সেকালে বাড়ির মহিলাদের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল তাই বাড়ির অন্তঃপুরের বাসিন্দাদের পূজো দেখার জন্যই দুর্গাপূজোর সূচনা করেছিলেন নীলমণি বাবু।

পুজোর ঐতিহ্য

পুজোর ঐতিহ্য

চার পুরুষ ধরে চন্দ্র বাড়ির ঠাকুর গড়ছেন নানু পাল। শতাব্দী প্রাচীন চন্ডী মন্ডপে দাঁড়িয়ে বলেন, "রথে ঠাকুরের পাট পড়ে, আর দ্বিতীয়ার দিন দেবীপ্রতিমা সিংহাসনে তোলা হয়, সিংহ এখানে ঘোড়ার মত, ঠাকুরের সমস্ত গয়না মাটির, প্রায় দু'হাত উচ্চতার ১০ পোয়া প্রতিমা মাটির সাজে এদিকে আর কোথাও হয় না। এখন আর ওদের বলার অপেক্ষা করি না, নিজের মত নিজেই কাজ করি, আমার পরবর্তী প্রজন্মকেও কাজ শিখিয়ে দিয়ে যাচ্ছি, চন্দ্র বাড়ির দুর্গার মাটির গয়না বানানোর কৌশল। " বর্তমানে শ্রী নানু পাল মহাশয় পরোলকপ্রাপ্ত হওয়ার পরে প্রতিমা নির্ম্মাণের দ্বায়িত্ব তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র ও সুযোগ্য উত্তরসূরি শ্রী দেবাশিষ পাল (বাপি) গ্রহন করেছেন।

চমকপ্রদ ইতিহাস

চমকপ্রদ ইতিহাস

পূজোর পুরোহিত ৯২ বছর বয়স্ক চক্রধর কাব্য ব্যাকরণ তীর্থ পূজোর পিছনে এক চমকপ্রদ ইতিহাসের কথা জানিয়েছেন -- নীলমণি চন্দ্র এক অত্যন্ত সৎ স্বর্ণব্যবসায়ী ছিলেন। সেকালে কলকতার নিমতলা অঞ্চলে এক পতিতা ধূমধাম করে দুর্গাপূজা করতেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁর রোজগার কমে এসেছিল। তিনি একবার দুর্গাপূজার স ম য়ে আর্থিক এভাবে পড়ে তার যৌবনের উপার্জন যাবতীয় অলঙ্কার শ্রী নীলমণি চন্দ্রকে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বহুমূল্য সেইসব অলঙ্কার বিক্রির কারণ শুনে নীলমণি চন্দ্র তাঁহাকে অলঙ্কার ছাড়াই পূজার নিমিত্ত অর্থসাহায্য করেন। প রব র্তীকালে ওই পতিতা যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন নীলমণি চন্দ্রের অর্থসাহায্যেই পূজো করেছেন। তিঁনি মৃত্যুর পূর্বে পূজার ভার নীলমণি চন্দ্রকে দিয়ে যান। তবে আগে ছাগবলি, আতসবাজির মহরা, কাদাখেলা অনেক কিছুই হয়েছে নাটমন্দিরের সামনের উঠোনে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই গিয়েছে হারিয়ে।

পুজোতে অন্নভোগ হয় না। চাল, ডালের নৈবেদ্য আর ওই ২৪ টি করে লুচি মিষ্টির ভোগ, তবে ২৪ টা কেন তা বলতে পারবো না।"

তথ্যসূত্র : শ্রী শুভায়ন চন্দ্র

ছবি সৌ:ফেসুবক

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+