অকাল হোলিতে মাতল সাগরদিঘি! উপ নির্বাচনের ক্রমেই ব্যবধান বাড়িয়ে জয়ের কাছাকাছি জোট প্রার্থী
একের পর এক রাউন্ডে এগিয়ে যাওয়ার খবর আসতেই সাগরদিঘি মেতে ওঠে অকাল হোলিতে। বিভিন্ন জায়গায় পটকা ফাটানোর সঙ্গে শুধু সবুজ আবির নয়, লাল আবির নিয়ে রাঙাতে দেখা যায় মানুষজনকে।
শূন্যে গেরো কাটিয়ে বাম-কংগ্রেস জোট অবশেষে বিধানসভায় খাতা খুলতে চলেছে। সাগরদিঘি বিধানসভার উপ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকালে ইভিএম খোলার পর থেকেই কংগ্রেসের দিকে পাল্লা ভারি। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটেও এক ভোট হলেও এগিয়ে ছিলেন বায়রন বিশ্বাস।

শুরু থেকেই এগিয়ে বাম-কংগ্রেস
সাগরদিঘির বিধানসভা উপ নির্বাচনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছিল বিধানসভার উপ নির্বাচন পর্ব। কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস, বিজেপির প্রার্থী ছিলেন দিলীপ সাহা ও তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের দিনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা লক্ষ্য ছিল কমিশনের। আর সেই মতো ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয় ভোট। বোমা ও গুলি ছাড়াই নির্বিঘ্নে শেষ হয় নির্বাচন। তবে বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির কামদাকিঙ্কর স্মৃতি মহা বিদ্যালয়ে গণনা কেন্দ্রে সকাল থেকেই গণনা শুরু হয়। মোট ১৬ টি টেবিলে ১৬ টি রাউন্ডের গণনা শুরু হয়। আর অর্ধেক রাউন্ড গণনায় সবকটি পর্বেরই এগিয়ে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস ।

মুর্শিদাবাদে অকাল হোলি
বাইরন বিশ্বাসের ভোটে এগিয়ে যেতেই একদা অধীর গড় হিসেবে পরিচিত সেই মুর্শিদাবাদে অকাল হোলিতে মেতে ওঠেন বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। ধুলিয়ানের একদা শিল্পপতি বাইরন বিশ্বাসের বাড়ির সামনেও আবির ও বাজি ফাটাতে থাকেন স্হানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বাজি ফাটাতে থাকেন কংগ্রেস কর্মীরা।

মানুষ আমাদের সঙ্গে
বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস জানিয়েছেন, জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। তিনিই জয়ী হবেন। মানুষ তাদের সঙ্গে আছে। পরিবর্তন হবে সাগরদিঘি থেকেই। আত্মবিশ্বাসী তিনি। ২০১১ সালে জেলার একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন সুব্রত সাহা। এই আসনে তৃণমূলকে হারিয়ে জেলায় তৃণমূলের শেষের শুরুর বার্তা দিতে চাইছে কি বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিরোধীরা, সেই প্রশ্ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও জয় নিয়ে আত্মবিশ্বসের সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী থেকে নেতাদের গলাতেও।

তৃণমূলের ভোটে ব্যাপক ধস
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি (৬০ নম্বর) বিধানসভা আসনে ৫০.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তৃণমূলের সদ্য প্রয়াত নেতা সুব্রত সাহা। ওই ভোটে প্রয়াত সুব্রত সাহার প্রাপ্ত ভোটের প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন বিজেপির মাফুজা খাতুন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৪.০৮ শতাংশ। ১৯.৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তালিকায় তিন নম্বরে ছিলেন কংগ্রেসের হাসানুজ্জামান(বাপ্পা)।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী এই ব্লকের জনসংখ্যা ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৪৬১ জন। তার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ছিলেন ২ লক্ষ ৭৯৬ জন। মুসলিম সম্প্রদায় ছিলেন ৬৪.৬৮ শতাংশ। হিন্দু সম্প্রদায় ৩১.৫৬ শতাংশ। অন্যান্য সম্প্রদায় ৩.৭৬ শতাংশ। সরকারি নিয়মে পরবর্তী জনগণনা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী দশ-এগারো বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধরে নেওয়া হয় ৭.৫% শতাংশ। সেই হিসেব ধরলে সাগরদিঘির বর্তমান জনসংখ্যা আনুমানিক ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৪৬ জন।
তবে ১৬ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে কে জয়ী হবেন এবং কত ব্যবধানে জয়ী হবেন তা জানতে।












Click it and Unblock the Notifications