Panchayat Election 2023: তৃণমূলে বেসুরো বিধায়ক, পঞ্চায়েতের আগে বিদ্রোহ জারি মুর্শিদাবাদে
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূলে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের সংখ্যালঘু তৃণমূল বিধায়ক বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো বাজছিলেন। এবার মুর্শিদাবাদেও চার বিধায়ক বেসুরো বাজতে শুরু করেছেন। তাঁরা পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্বে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
এবার সুর চড়িয়ে ফের বিস্ফোরক হলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবরা মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে হুমায়ুন কবির গর্জে উঠলেন জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী সাওনি সিংহরায়ের বিরুদ্ধে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন তিনি।

তিনি এবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৭২ ঘন্টা সময় দিচ্ছি, তার মধ্যে জেলা সভানেত্রী ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিও করেছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দলীয় স্তরের টিকিট বিলিতে আর্থিক বিনিময় হয়েছে অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে বিলি করা হয়েছে টিকিট।
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে। রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েতের আগে এই বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠা তৃণমূলের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। কংগ্রেসের গড়ে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভবৃদ্ধিতে সংকট বাড়ছে ক্রমশ।
সম্প্রতি পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্বে টিকিট না পেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার চার তৃণমূলের বিধায়ক ক্ষোভ সামনে আসে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ দিনে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলেন মুর্শিাবাদ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী ও চেয়ারম্যানের দিকে।
বেসুরোদের তালিকায় ছিলেন ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ বেগম, রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী ও জলঙ্গীর বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক। তৃণমূলের কোন্দল প্রকট হয়ে ওঠে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের জেরে। সরাসরি সাওনি সিংহরায় ও অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তাঁরা।

তাঁদের বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের আঁচ যে তৃণমূলের গায়ে ভালোরকমই লেগেছে, তার প্রমাণ ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের হুঁশিয়ারি। এখন দেখার আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের ফলে আদৌ কোনো প্রভাব পড়ে কি না। অন্তত মুর্শিদাবাদের পক্ষে তা বুমেরাং হতে পারে।
তৃণমূল যেমন মুর্শিদাবাদে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ, কংগ্রেসকে ততটাই সঙ্ঘবদ্ধ মনে হচ্ছে। তারপর অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলায় তৃণমূলকে সবক সেখানে কংগ্রেস বদ্ধপরিকরষ। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে যে অক্সিজেন পেয়েছেন কংগ্রেস, তা এবার পঞ্চায়েতে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস ফের প্রাসঙ্গিক হতে চাইছে।
এদিন বড়ঞা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে ধর্নায় বসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সিম্বল জমা দেওয়ার সময় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের কাছে আক্রান্ত হন কংগ্রেসের প্রার্থী ও নেতারা-কর্মীরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications