Panchayat Election 2023: রণেভঙ্গ বিদ্রোহী বিধায়কদের, অভিষেক পা রাখতেই সুড়সুড় করে হাজির হুমায়ুনরা
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধাযক হুমায়ুন কবীর। এমনকী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার দিন একই সময় পাল্টা সভা করার হুঁশিারি দিয়েছিলেন। কিন্তু আসল সময়েই রণে ভঙ্গ দিলেন। সুড়সুড় করে অভিষেকের সভায় হাজির তিনি।
তিনি একা নন, তাঁর বিদ্রোহের সঙ্গীরাও হাজির হলেন অভিষেকের সভায়। রাজনৈতিক মহল মনে করছিল, হুমায়ুন কবীর যেমন হম্বিতম্বি করছেন, তাতে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদে সরগরম হবে তৃণমূল বনাম তৃণমূল যুদ্ধে। কিন্তু কোথায় কী! অভিষেক আসতেই বরফ গলে জল হয়ে গেল হুমায়ুনের।

ছাতা মাথায় লক্ষ্মী ছেলের মতো অভিষেকের সভায় হাজির তিনি। আগেই বাতিল করে দিয়েছেন ঘোষিত সভা। তিনি বেসুরো বিধায়কদের নিয়ে ডোমকলে তৃণমূলের সভায় হাজির হন। হুমায়ুন আর দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখলেন না। ফলে তৃণমূলে স্বস্তি ফিরল পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয় নিয়ে হুমায়ুন কবীরর নেতৃত্বে তৃণমূলের চার বিধায়ক বিদ্রোহ করেন। বিধায়ক-অনুগামীদের পঞ্চায়েতের টিকিট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তাঁরা আঙুল তুলেছিলেন দলের সভানেত্রী শাওনি সিংহরায় ও চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকারের দিকে।
দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে একের পর এক বাণ ছেড়েছেন তিনি। তাঁর পথ ধরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, জলঙ্গির বিধায় আবদুর রেজ্জাক ও নওদার বিধায়ক শাহিনা মমতাজ। এরপর হুমায়ুনের ছেলে ও মমতাজের মেয়ের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, আগামী দিনে তৃণমূলকে ২০ থেকে ২-এ নামিয়ে আনবেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি যে এমন চুপসে যাবেন, তা ভাবতে পারেনি রাজনৈতিক মহলের একটা বড়ো অংশ। কী এমন হল হুমায়ুন কবীরের অসন্তোষ মিটে গেল। তিনি রণে ভঙ্গ দিলেন।
পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে। চার বিধায়ক একজোট হয়ে অভিযোগ করেন, তাঁদেরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব প্রার্থী মনোনয়ন করেছে। তাঁদের অনুগামী কাউকে প্রার্থীপদ দেওয়া হয়নি। কোন্দল চরমে ওঠে।
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, গোটা জেলাব্যাপী তৃণমূলের প্রতীক বিক্রি করেছেন জেলা সভানেত্রী শাওনি সিংহ রায়। এখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য তৃণমূল কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। কার মদতে তিনি এটা করেছেন, তা জানা নেই।

হুমায়ুন কবীর একের পর এক বোমা ছুড়েই চলেছেন। জেলা সভানেত্রী-চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি থেকে, নির্দলের হয়ে প্রচার, তৃণমূলকে হারানোর অঙ্গীকার কিছুই বাকি রাখেননি তিনি। তিনি সর্বশেষ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তৃণমূলকে এই জেলায় ২০ থেকে ২-এ নামিয়ে আনবেন তিনি।
এখানে উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত অসন্তোষে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইসলামপুরের বিধায়ক করিম চৌধুরী, বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী, মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা প্রমুখও। মুর্শিদাবাদের চার বিধায়কও ছিলেন বেসুরো।












Click it and Unblock the Notifications