বাংলায় নির্বাচন এলেই সিএএ তাস, ত্রিপুরায় উচ্চবাচ্য নেই বিজেপির! খোঁচা অধীরের
একটিবারের জন্যও বিজেপি ত্রিপুরায় সিএএ বা নাগরিক আইন নিয়ে প্রচার করেনি। বিজেপির মুখে এনআরসি-র কথা নেই, সিএএ-র কথা নেই।
বাংলায় নির্বাচন এলেই নাগরিক আইনকে হাতিয়ার করে বিজেপি। সিএএ নিয়ে শোরগোল ফেলে দেয়। কিন্তু ত্রিপুরায় নির্বাচনের প্রচার পর্ব শেষ হয়ে গেল একবারও নাগরিকত্ব আইনের কথা উঠল না, নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ গন্ধও পাওয়া গেল না। তা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

বিজেপি সিএএ সুড়সুড়ি নিয়ে খোঁচা
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠক বলেন, বিজেপি সিএএ বা নাগরিক আইনকে ভোটের কাজে ব্যবহার করে। যেখানে প্রয়োগ করার দরকরা সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য, সেখানে সেখানে সুড়সুড়ি দেয়। যেখানে সিএএ কথা বললে বিপদ, সেখানে চুপ করে থাকে উচ্চবাচ্যও করে না।

ত্রিপুরাতে বিজেপির সিএএ নীরবতা
অধীর চৌধুরী বলেন, একটিবারের জন্যও বিজেপি ত্রিপুরায় সিএএ বা নাগরিক আইন নিয়ে প্রচার করেনি। বিজেপির মুখে এনআরসি-র কথা নেই, সিএএ-র কথা নেই। কারণ কী জানেন, আসলে ত্রিপুরাতে বিজেপির সিএএ বা এনআরসির দরকার নেই। বিজেপি ত্রিপুরার বেলায় এনআরসি বা সিএএ নিয়ে কিছু করবে না, তার কারণ ত্রিপুরায় তাহলে উপজাতিরা রেগে যাবেন।

ত্রিপুরাতে সিএএ-এনআরসি কিছুই বেরোচ্ছে না বাক্স থেকে
উপজাতি ভোট হারানোর ভয়ে আজকে বিজেপি ত্রিপুরাতে এনআরসি নিয়ে কোনো কিছু বাক্স থেকে বের করছে না। অথচ চার বছর হয়ে গেল নাগরিক আইন পাস হয়ে গিয়েছে। সেই আইন বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা হচ্ছে না বিজেপির। নাগরিক আইন লাগু করবেন কী, এখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো আইন জানেন না।

বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ
এখন দেশে এমন পরিস্থিতি যে, এসব কথা বলা মানেই আপনি সন্ত্রাসবাদী। রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করা যাবে না এই সরকারের আমলে। কেন্দ্রে যেমন বিজেপি সরকার, তেমনই রাজ্যের তৃণমূল সরকার। বিজেপি ও তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী।

সিদ্দিকীকে বিনা শর্ত মুক্তি দেওয়া হোক
অধীর বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আজকে গণতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে। যেদিন থেকে দিদি ক্ষমতায় এসেছেন সেদিন থেকে গণতন্ত্র আক্রান্ত। এই যে বিধায়ক নওশান সিদ্দিকিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে মতানৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যা খুশি তাই করা যেতে পারে। আমরা চাই সিদ্দিকীকে বিনা শর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।

রাজ্যপাল-উপরাষ্ট্রপতি বৈঠক প্রসঙ্গে অধীর
এদিন বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে বৈঠক নিয়েও মুখ খোলেন অধীর চৌধুরী। সেই বৈঠক নিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, দার্জিলিং চুক্তি অনুযায়ী দিদির সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেই মোতাবেক ধনখড় সাহেবকে উপরাষ্ট্রপতি মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়।

রাজ্যপাল যেন দিদির সঙ্গে ঝামেলা না করে!
অধীর বলেন, সিভি আনন্দ বোসকে রাজ্যপাল করে আনা হয়েছে, যাতে রাজ্যপাল যেন দিদির সঙ্গে ঝামেলা না করে। নয়া রাজ্যপাল আনন্দ বোস তো দিদিকে দেবদেবী বানিয়ে ছেড়েছিলেন। তবে বিজেপির মনে হয়েছিল একটু ধাক্কা দেওয়া দরকার। তাই বিজেপি এখন মাঠে নেমেছে। সিভি আনন্দ বোসও এবার কড়া হতে শুরু করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications