সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত কেন, বঙ্গ বিজেপিকে প্রশ্নবাণ ছুড়ল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
সাগরদিঘিতে তৃতীয় স্থান থেকে একেবারে প্রথম স্থানে চলে এসেছেন কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। তৃণমূলকে হারিয়ে সাগরদিঘিতে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস। আর বিজেপি দ্বিতীয় স্থান থেকে নেমে গিয়েছে তিনে।
একুশের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে বিজেপি ছিল দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু উপনির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সাহার। দ্বিতীয় স্থান থেকে বিজেপি নেমে গেল তৃতীয় স্থানে। কেন এই পদস্খলন? বঙ্গে বিজেপির কাছে তা জানতে চাইল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সাগরদিঘিতে তৃতীয় স্থান থেকে একেবারে প্রথম স্থানে চলে এসেছেন কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। তৃণমূলকে হারিয়ে সাগরদিঘিতে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস। আর বিজেপি দ্বিতীয় স্থান থেকে নেমে গিয়েছে তিনে। বিগত দুই নি্র্বাচনে বিজেপি এই কেন্দ্রে বিপুল ভোট পেয়েছিল। বিজেপি ছিল দ্বিতীয় স্থানে।

পর পর দুই নির্বাচনে দ্বিতীয় বিজেপি
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ৫৪ হাজারেরও বেশি ভোটে লিড করেছিলেন। আর ২০২১-এর নির্বাচনে বিজেপি এখানে ৪৫ হাজার ভোট পেয়েছিল। একটু ভোট কমলেও অবস্থান বদল হয়নি। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত সাহা জয়ী হয়েছিলেন সাগরদিঘি থেকে। পরপর তিনবার তাঁর জয়ে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২৫ হাজারে নেমে গেল বিজেপির ভোট
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থির ভোট নেমে গেল একেবারে ১৪ শতাংশে। বিজেপি প্রার্থী একানে ভোট পেয়েছেন ২৫৮১৫টি। বিজেপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এখানে। বিজেপির এই ফলে বেজায় চটেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন এতটা পদস্ফলন হবে। কেন ৪৫ হাজার থেকে একেবারে ২৫ হাজারে নেমে গেল বিজেপির ভোট।

ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইছে বিজেপি
বঙ্গ বিজেপিকে জবাবদিহি করতে বলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন ২০১৯-এর পর থেকে সাগরদিঘিতে ভোট প্রাপ্তির হার কমছে তা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে সুকান্ত মজুমদারদের। এবারে একেবারে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে ভোট। কী কারণে ভোট এত কমে গেল, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোথায় খামতি রয়ে গিয়েছে, তা ২০২৪-এর ভোটের আগে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চাইছে বিজেপি।

বঙ্গ বেজিপের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
বিজেপি যেখানে পর পর দুবার দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে এবং ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, সেখানে কেন জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল বিজেপির, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। বঙ্গ বেজিপের কাছে এই মর্মে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃড্বের এই দাবিতে চাপে পড়ে গিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সন্তুষ্ট নয় সুকান্তদের ব্যাখ্যায়
বিজেপির রাজ্য সভাপতি যেমন সাগরদিঘিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার দায় এড়াতে পারেন না, তেমনই দায় এড়াতে পারেন না বিরোধী দলনেতা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও। কেননা তিনিই ছিলেন প্রচারে প্রধানমুখ। বঙ্গ বিজেপি সংখ্যালঘু তত্ত্ব খাঁড়া করে দায় এড়াতে চাইছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।

২০২৪-এর নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিশেষ গুরুত্ব
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যুক্তি ২০১৯ ও ২০২১-এও তো সংখ্যালঘুরা ছিলেন। তখন বিজেপি ভোট পেয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আর এই দু-বছরের মধ্যে কী হল যে বিজেপির ভোট কমে অর্ধেক হয়ে গেল! ২০২৪-এর নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।












Click it and Unblock the Notifications