দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না! আত্মবিশ্বাসী বায়রন কী বললেন মুর্শিদাবাদে ফিরে
একুশের খরা কাটিয়ে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জিতে কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে বিধানসভা পা রেখেছিলেন বায়রন বিশ্বাস। তিন মাস কাটতে না কাটতেই তিনি যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। দল ভাঙার সেই পুরনো খেলায় কংগ্রেস ফের ধরাশায়ী। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কী কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নই উঠে পড়েছে আবার?
ঘাটালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচিতে গিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের পর বুধবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে ফিরে বায়রন বিশ্বাস বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না! তিনি এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান তিনি।

দলবদলের পর বৃহস্পতিবার সাগরদিঘিতে তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে প্রস্তুত সাগরদিঘি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সংবর্ধনা মঞ্চে তিনি কী বার্তা দেন তা জানতে মুখিয়ে আছেন সাগরদিঘির মানুষ। তবে তার আগে মুর্শিদাবাদে পা দিয়েই তিনি আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করলেন।
সাগরদিঘিতে পা রাখার আগে তৃণমূল যখন তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন, তখনই তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছে জেলাজুড়ে। বাম-কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়েছে। সবাই চান, তিনি পদত্যাগ করে পুনরায় নির্বাচনে লড়ুন। এই প্রশ্নের মুখে পড়ে বায়রন বিশ্বাস দিলেন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।
বায়রন জানান, আমার দলত্যাগের জন্য দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয় না। ফলে পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠে না। যদি নিয়ম অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হত, আমি নিয়ম মেনে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়াতাম। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলকে যোগ দিয়ে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এরপর তিনি জানান, অধীর চৌধুরী তাঁর প্রণম্য। কিন্তু পথ প্রদর্শক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। অর্থাৎ অধীর চৌধুরী যে তাঁকে টিকিট দিয়েছেন, বিধায়ক বানিয়েছেন, তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই তাঁকে প্রণাম জানিয়ে তিনি এখন অভিষেকের দেখানো পথে হাঁটবেন। অভিষেকের পথ অনুসরণ করেই চলবেন।
মুর্শিদাবাদ তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস সাগরদিঘির উন্নয়নের কথা ভেবে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর যোগদানে উচ্ছ্বসিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাগরদিঘি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ময়দানে বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকে তাঁরা সংবর্ধনা দেবেন। উপস্থিত থাকবেন সাংসদ খলিলুর রহমান ও চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল।
সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয় রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছিল কংগ্রেস। তারপর রাজ্যজুড়ে আলোচনা সাগরদিঘি মডেল প্রয়োগ হবে বাংলায়। তৃণমূলকে যে হারানো যায়, তা দেখিয়ে দিয়েছিল সাগরদিঘি। বায়রন বিশ্বাস দলত্যাগ করলেও সাগরদিঘি কি বদলেছে, সে প্রশ্ন রয়েই যায়!












Click it and Unblock the Notifications