নিয়োগ দুর্নীতিতে মুর্শিদাবাদের বহু মাথা এবার সামনে আসবে, বাবা-জীবন কটাক্ষে বার্তা অধীরের
নিয়োগ দুর্নীতিতে ৬৫ ঘণ্টা বেনজির জেরার পর মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরই মুর্শিদাবাদের রবীন হুড অধীর চৌধুরীর দাবি, এবার বহু মাথা সামনে আসবে। জীবনকৃষ্ণকে বাবা-জীবন কটাক্ষে বিঁধে তিনি এই দুর্নীতির জাল কাটার বার্তা দেন।
অধীর বলেন, এই চক্রের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের বহু মাথা যুক্ত আছেন। এখন বাবাজীবন ফেঁসেছেন! এবার একে একে অনেক মাথা সামনে আসবে। অনেকে বলছিলেন, এখনও কেন গ্রেফতার হচ্ছেন না। জীবনবাবুকে ঘরের খাওয়ার না খাইয়ে, সিবিআই খাওয়ার এনে খাইয়েছে। তার মানে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া নিশ্চিত ছিল।

অধীর মনে করেন, জীবনকৃষ্ণের এই চক্রের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের বহু মাথা যুক্ত আছেন। জীবন একা খায়নি, বাবাজীবন ফেঁসেছেন। বাংলার সব জেলাতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জাল বিস্তৃত রয়েছে। তাই সমস্ত জেলাতেই ঝুলি খুললে দুর্নীতি বেরিয়ে পড়বে। এমন অনেক বাবাজীবনের খোঁজ মিলবে।
সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিয়োগ দুর্নীতির এক তালিকা প্রকাশ করেছেন। গত দেড় বছরে তৃণমূল চাকরি দেওয়ার নামে কী কী দুর্নীতি করেছে, এক এক করে তার পর্দা ফাঁস করছেন তিনি। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শাসকদলের দুর্নীতি সামনে আনতে চাইছেন তিনি।

আর এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী যখন তালিকা প্রকাশ করেছেন, তখন ওনাকেই বলুন। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমও শুভেন্দুকে কটাক্ষ করে বলেন, এক চোর ধরা পড়লে অন্য চোর সাফাই গায়। শুভেন্দুও তো তৃণমূলে থাকাকালীন নিয়োগ করিয়েছেন, সেই তথ্য কোথায় গেল?
হাইকোর্ট থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করার নির্দেশ দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে সোমবার অধীর চৌধুরী বলেন, হাইকোর্টের রায় পক্ষে না গেলেই সুপ্রিম কোর্টে যেতে হবে- এই মানসিকতা ছাড়তে হবে। যেটা হবে, সেটা তৃণমূলকে মোকাবিলা করার হিম্মত দেখাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এত বড় দুর্নীতি চলছে বাংলাজুড়ে। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন কোনো কিছু বলছেন না। একদিকে তাঁর দলের লোকদের তিনি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন দিদি সৎ, বাকিরা সব অসৎ। এটাই প্রচারের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।
মমতাকে নিশানা করে অধীর বলেন, যেভাবে আপনার ঘরের লোকদেরকে বাঁচানোর জন্য হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট করছেন তাতে টাকার খরচের হিসেব নেই। অথচ টাকার অভাবে আপনি ডিএ দিতে পারছেন না। আপনি খোকাবাবুর জন্য লড়বেন আর সরকারি কর্মীদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়বে। শুধু ডিএ দেবেন না।












Click it and Unblock the Notifications