মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন, সাগরদিঘি নির্বাচনের আগে তোপ অধীরের
দিদির ভাইদেরকে বলব বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ করে দেখনদারি রাজনীতি করতে হবে না। দিদি-মোদীর আঁতাত গোটা ভারতবর্ষ জেনে গিয়েছে।
বোমার সংস্কৃতি শুধু আমাদেরকে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও শেষ করে দিচ্ছে। রাজ্যে দিনের পর দিন যেভাবে বোমা-বন্দুকের সংস্কৃতি বাড়ছে, তাতে খুব কষ্ট পাচ্ছি। রাজ্যের হাল হকিকৎ তুলে ধরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী একহাত নিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বোমা-বারুদের সংস্কৃতি বাংলার জীবনকে বিনষ্ট করে দিচ্ছে
অধীর বলেন, যখন একজন পরীক্ষার্থী নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তখন বাংলার এই বোমা-বারুদের সংস্কৃতি বাংলার জীবনকে বিনষ্ট করে দিচ্ছে। বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে এভাবেই রাজ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিরোধীদের জায়গা দিতে চাইছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাই বিরোধীদের যেনতেন প্রকারে দমন করতে চাইছে তৃণমূল। আমরা বলেছিলাম নওশাদকে ছেড়ে দিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অন্যায়ভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে আটকে রেখেছে। নওশাদ সিদ্দিকী প্রতিবাদ করেছেন, তার জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এতদিন জেলে রাখার কোনো প্রয়োজন হয় না বলেই আমরা মনে করি। অধীর বলেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই নওশাদ সিদ্দিকীকে আটকে রাখা হয়েছে।

ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটে জিততে চাইছে তৃণমূল
এদিন অধীর বলেন, সাগরদিঘি বিধানসভার যে সমস্ত সীমান্ত এলাকায় নির্বাচন নেই সেখানে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীকে মোতায়ন করা হচ্ছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটে জিততে চাইছে তৃণমূল। কিন্তু সাগরদিঘির মানুষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের অধিকার ঠিকই বুঝে নেবে। তৃণমূলের মোকাবিলা করতে সাগরদিঘির মানুষ প্রস্তুত।

পঞ্চায়েতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এবার যেন সুয়োগ পান
অধীর চৌধুরী বলেন, যাঁকে খুশি ভোট দিন, কিন্তু আপনার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। পঞ্চায়েতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। এই মর্মে তিনি নির্বাচন কমিশনকে আবেদন করেন। আবেদন করেন ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার। তারপর মানুষ যাঁকে ভোটে দেবে, সে জিতবে।

বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে তৃণমূল সরকার চলছে বাংলায়
অধীরের কথায়, কেউ আমার দল করতে পারে, কেউ আমার দল নাও করতে পারে। কিন্তু আমরা কাউকে আক্রমণ করার জন্য লাইসেন্স আদায় করতে পারি না। বিজেপির বিরুদ্ধে হাজারটা অভিযোগ আছে। সেই বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে তৃণমূল সরকার চলছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

দিদি-মোদীর আঁতাত গোটা ভারতবর্ষ জেনে গিয়েছে
মোদী-দিদি সেটিং তত্ত্ব উসকে দিয়ে তিনি বলেন, দিদির ভাইদেরকে বলব বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ করে দেখনদারি রাজনীতি করতে হবে না। দিদি-মোদীর আঁতাত গোটা ভারতবর্ষ জেনে গিয়েছে। সেই আঁতাত দিদি যত্ন সহকারে পালন করছেন। শুধু এ রাজ্য নয়, বিভিন্ন রাজ্যে তৃণমূল বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে।

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে দাবি পেশ
অধীরের কথায়, নির্বাচন কমিশনকে নজর রাখতে বলেছি। কারণ পশ্চিমবঙ্গ মানে নির্বাচনী সন্ত্রাস এটা সারা ভারতবর্ষ জানে। তৃণমূল মানে নির্বাচনের সন্ত্রাস আর নির্বাচনী সন্ত্রাস মানেই তৃণমূল। তাই স্বাভাবিকভাবে সাগরদিঘি নির্বাচন নিয়ে যাতে কোনো সন্ত্রাসের সুযোগ না পায় রাজ্যের শাসকদল, তা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে আমরা দাবি পেশ করেছি।












Click it and Unblock the Notifications